ট্রাম্পের দাবি নস্যাৎ: হামলার আগে ইরানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে গোয়েন্দা রিপোর্টে চাঞ্চল্য – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতির ভিত্তি নিয়ে খোদ প্রশাসনের অন্দরেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড সেনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটিতে স্বীকার করেছেন যে, ২০২৫ সালের জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর পর ইরান তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা পুনর্গঠনের কোনো চেষ্টাই করেনি। গ্যাবার্ডের এই মূল্যায়ন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘আসন্ন পরমাণু হুমকি’ সংক্রান্ত দাবিকে সরাসরি খণ্ডন করছে, যা ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
এই সামরিক পদক্ষেপের প্রতিবাদে ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন। কেন্ট তাঁর পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না এবং এই যুদ্ধ ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো সার্বভৌম দেশে হামলার জন্য ‘আসন্ন হুমকি’ প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক হলেও, গোয়েন্দা প্রধানের এই নতুন তথ্য ট্রাম্পের সামরিক অভিযানকে আইনি ও নৈতিকভাবে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
এর আগে রাষ্ট্রসংঘের পরমাণু নজরদার সংস্থা আইএইএ-র প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছিলেন যে, ইরানে পরমাণু বোমা তৈরির কোনো অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। যদিও সেখানে প্রচুর পরিমাণে ইউরেনিয়াম মজুত এবং পরিদর্শকদের বাধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছিল। গত বছর গাজা যুদ্ধ চলাকালীন আমেরিকা ইরানের একাধিক পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল। ইরান শুরু থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দাবি অস্বীকার করে এলেও, ওয়াশিংটন একে একটি বিপজ্জনক কর্মসূচি হিসেবে চিহ্নিত করে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল।

