এক শোকবার্তায় খুলল হরমজ প্রণালীর রুদ্ধ দুয়ার, ভারতের মাস্টারস্ট্রোকে অবাক বিশ্ব – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে যখন উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য, ঠিক তখনই অসাধ্য সাধন করল ভারত। যে হোরমুজ প্রণালী দিয়ে শত্রুদেশের জাহাজ যাতায়াত কার্যত আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেখানে ভারতের কূটনীতির কাছে হার মানল খোদ তেহরান। স্রেফ একটি শোকবার্তা আর সুকৌশলী আলোচনার টেবিলে মিলল সেই চাবিকাঠি, যা ভারতের জ্বালানি সংকট রুখে দিল।
মার্চের শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুতে যখন গোটা বিশ্ব স্তম্ভিত, তখন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি ইরানি দূতাবাসে গিয়ে শোক বইতে সই করেন। দৃশ্যত এটি সাধারণ সৌজন্য মনে হলেও, এর নেপথ্যে ছিল গভীর কৌশল। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী— প্রত্যেকেই ইরানি প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেন। ফলশ্রুতিতে, অবরুদ্ধ জলপথ দিয়ে নিরাপদে ভারতে পৌঁছাল দুটি বিশাল এলপিজি ট্যাঙ্কার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত কেবল শোক প্রকাশ করেনি, বরং এর আগে বিপদে পড়া ১৮৩ জন ইরানি নাবিককে কোচি বন্দরে আশ্রয় দিয়ে এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে দিয়ে তেহরানের বিশ্বাস অর্জন করেছিল। কোনো স্থায়ী চুক্তি ছাড়াই প্রতিটি ট্যাঙ্কারের জন্য আলাদাভাবে আলোচনা চালাচ্ছে দিল্লি। যুদ্ধের বাজারেও ভারতের এই ‘ডিপ্লোম্যাটিক কুপ’ বিশ্বমঞ্চে নতুন সমীকরণ তৈরি করল।

