আকাশে রকেট আর জমিনে দমনের রক্তচক্ষু: মৃত্যুপুরী তেহরানের রুদ্ধশ্বাস আর্তনাদ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের আকাশে এখন তারার বদলে উড়ছে ঘাতক রকেট। একদিকে ইজরায়েলি হামলার আতঙ্ক, অন্যদিকে নিজ দেশের প্রশাসনের কঠোর দমনপীড়ন—এই দুই যাতাকলে পিষ্ট তেহরানের সাধারণ মানুষ। জানালার বাইরে আগুনের লেলিহান শিখা আর রাস্তার মোড়ে মোড়ে মুখোশধারী প্রহরীদের উপস্থিতিতে শহরটি এখন এক জীবন্ত নরকে পরিণত হয়েছে।
আতঙ্কে কাটছে নির্ঘুম রাত তিরিশোর্ধ্ব ব্যবসায়ী বারান (ছদ্মনাম) জানান, ড্রোন হামলা শুরুর পর থেকে ঘরের বাইরে পা রাখা মানেই জীবনকে বাজি ধরা। “অন্য দেশের মানুষ তারার নিচে ঘুমায়, আর আমরা ঘুমাই রকেটের নিচে,”—এভাবেই নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন তিনি। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সারাক্ষণ মেসেজে যোগাযোগ রাখাই এখন বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
স্বপ্নভঙ্গ ও একাকী লড়াই জানুয়ারির বিক্ষোভের পর থেকেই ইরানি তরুণ প্রজন্মের পরিবর্তনের আশা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হাজারো মানুষের মৃত্যুর পর এখন রাজপথে নামা প্রায় আসাম্ভব। ড্রোনের শব্দ আর সাইরেনের গগনবিদারী আওয়াজে অভ্যস্ত হয়ে পড়া নাগরিকরা এখন বিষণ্ণতা কাটানোর ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
শাসকের নজরদারি বনাম মানুষের চাপা ক্ষোভ তেহরানের রাস্তায় এখন সাধারণ মানুষের চেয়ে সরকারি মদতপুষ্ট সশস্ত্র বাহিনীর দাপট বেশি। চল্লিশোর্ধ্ব আলী বলেন, “রাস্তায় বের হলেই বুক ফেটে যায়, মনে হয় এটা কোনো মৃত মানুষের শহর।” একদিকে বিজাতীয় শক্তির হামলার ভয়, অন্যদিকে বর্তমান শাসনব্যবস্থার থেকে মুক্তির তীব্র আকাঙ্ক্ষা—এই দুই বিপরীতমুখী আবেগের লড়াই চলছে প্রতিটি ঘরে।
ছয় হাজার বছরের পুরনো এই ঐতিহাসিক শহরটি আজ কেবল ধ্বংস আর দমনের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যুদ্ধ হয়তো একদিন থামবে, কিন্তু এই বিভীষিকা সাধারণ ইরানিদের মনে যে ক্ষত তৈরি করছে, তা কি আদেও কোনোদিন মুছবে?

