রাতে পেট ভরা, তবুও কেন খিদে পায়? মাঝরাতের এই লুকোনো সংকেত জানেন? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
রাতে পেট ভরে খাওয়ার পরেও বারবার ক্ষুধা লাগা বা নির্দিষ্ট কিছু খাবারের প্রতি আসক্তি কেবল মানসিক ইচ্ছা নয়, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ পুষ্টির ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, ডায়েটে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে খাওয়ার পরেও পেট খালি মনে হয়। প্রতিদিনের ক্যালোরির অন্তত ২৫ শতাংশ প্রোটিন থেকে এলে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে যায়। বিশেষ করে রাতে প্রোটিনের অভাব হলে মাঝরাতে ফ্রিজ খুলে খাবার খোঁজার অভ্যাস তৈরি হয়।
মিষ্টি বা নোনতা খাবারের প্রতি তীব্র ঝোঁকও বিশেষ শারীরিক অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। শরীরে কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা জলের ঘাটতি থাকলে শর্করার চাহিদা বাড়ে। আবার মানসিক চাপ বা ঘুমের অভাব ঘটলে কর্টিসল হরমোনের প্রভাবে ভাজাভুজি ও নোনতা খাবারের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়। বিকেল ৪টে থেকে ৬টার মধ্যে মিষ্টি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা মূলত শরীরে শক্তির অভাবকে নির্দেশ করে। এই সংকেতগুলো উপেক্ষা করলে স্থূলতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ে।
অস্বাস্থ্যকর জাঙ্ক ফুডের আসক্তি কাটাতে প্রতিটি বেলা নির্দিষ্ট সময়ে সুষম খাবার খাওয়া জরুরি। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়, যা ভাজাভুজি বা প্রসেসড ফুডের প্রতি ঝোঁক বাড়িয়ে দেয়। ক্ষুধা পাওয়ার শুরুতেই স্বাস্থ্যকর হালকা খাবার খেলে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শরীর ও মনের সুস্থতা বজায় রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও পর্যাপ্ত জলের ভারসাম্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

