লেটেস্ট নিউজ

গ্যাস এল না অথচ মোবাইলে ডেলিভারি মেসেজ! মালদায় ডিস্ট্রিবিউটরের রহস্যময় কারসাজিতে রণক্ষেত্র রাস্তা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রান্নার গ্যাস নিয়ে ডিস্ট্রিবিউটরের আজব ভেলকি

বুকিং করার পরও মিলছে না রান্নার গ্যাস, অথচ গ্রাহকদের মোবাইলে চলে আসছে ‘সফল ডেলিভারি’র মেসেজ। এমনকি ব্যাঙ্কেও ঢুকে যাচ্ছে ভর্তুকির টাকা। ডিস্ট্রিবিউটরের এই রহস্যময় কারচুপির প্রতিবাদে মঙ্গলবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মালদা শহরের মনস্কামনা রোড এলাকা। খালি সিলিন্ডার রাস্তায় রেখে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন কয়েকশ গ্রাহক।

খালি সিলিন্ডার হাতে পথ অবরোধ

মঙ্গলবার দুপুরে ইংরেজবাজার পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষপল্লীসহ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা ওই গ্যাস ডেলিভারি অফিসের সামনে জড়ো হন। গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে গ্যাস বুক করেও তারা সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। এদিন সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউটরের অফিস বন্ধ থাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ক্ষুব্ধ জনতা খালি সিলিন্ডার নিয়ে রাস্তায় বসে পড়লে ওই ব্যস্ত রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

ভর্তুকির টাকা ঢুকলেও উধাও সিলিন্ডার

বিক্ষোভকারী জয়রাম দাস ও সমর বাগচীর দাবি, “অদ্ভুত কারবার চলছে। গ্যাস বাড়িতে এল না, কিন্তু মোবাইলে মেসেজ এল যে ডেলিভারি হয়ে গিয়েছে। অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির টাকাও ঢুকেছে। এতেই পরিষ্কার, আমাদের জন্য বরাদ্দ ডোমেস্টিক গ্যাস চড়া দামে বাইরে পাচার করা হচ্ছে।”

কালোবাজারির অভিযোগ ও চরম ভোগান্তি

গ্রাহকদের অভিযোগ, বাণিজ্যিক গ্যাসের সংকট চলায় ডিস্ট্রিবিউটরের একাংশ সাধারণ মানুষের ঘরোয়া সিলিন্ডার হোটেল বা রেস্তোরাঁয় কালোবাজারি করছে। বাড়িতে রান্নার গ্যাস না থাকায় চরম সমস্যায় পড়েছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। বাধ্য হয়ে অনেকেই বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।

পুলিশি তৎপরতা ও প্রশাসনের আশ্বাস

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে এবং ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর অবরোধ ওঠে। যদিও গ্রাহকদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।

এদিকে ‘সিকিম এন্ড নর্থবেঙ্গল এইচপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটার অ্যাসোসিয়েশনের’ সভাপতি সৌমেশ চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, ঘরোয়া গ্যাসের কোনও ঘাটতি নেই। কোনও ডিস্ট্রিবিউটর অনিয়ম করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *