ট্রাম্পের ১৫ শর্তে কি হার মানবে ইরান? পাকিস্তান মারফত পৌঁছালো যুদ্ধের ‘গোপন’ প্রস্তাব – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামার মাঝেই দাবার চালে বড় মোড় নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ইরানকে ১৫টি কঠিন শর্ত পাঠিয়েছেন তিনি। পাকিস্তান ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে তেহরানের দরবারে পৌঁছেছে এই ‘শান্তি প্রস্তাব’।
কী আছে ট্রাম্পের ১৫ শর্তে? নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে এক মাসের যুদ্ধবিরতি, পরমাণু কর্মসূচি সীমাবদ্ধ করা এবং হামাস-হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘স্ট্রেট অফ হরমুজ’ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। বিনিময়ে ইরানকে আংশিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি এবং অসামরিক পরমাণু শক্তিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের তত্ত্বাবধানে ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আমেরিকা।
ইজরায়েলের কপালে চিন্তার ভাঁজ আমেরিকার এই আকস্মিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রীতিমতো অবাক ইজরায়েলি প্রশাসন। তেল আভিভ মনে করছে, ইরানকে এখনই দমানো প্রয়োজন। অন্যদিকে, একদিকে যখন কূটনীতি চলছে, তখন অন্যদিকে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও ৩০০০ অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে। বর্তমানে সেখানে আমেরিকার প্রায় ৫০,০০০ সেনা মোতায়েন রয়েছে।
ইরান কি মাথা নোয়াবে? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই প্রস্তাব অনেকটা মে ২০২৫-এর পুরনো ফরম্যাটের মতো। ইউরেনিয়াম মজুত বাইরে পাঠানো এবং মিসাইল ক্ষমতা কমিয়ে ফেলার শর্ত মানা মানেই ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ। তেহরান যদি এই শর্তে রাজি হয়, তবে তা হবে তাদের চরম পরাজয়। পাল্টা জবাবে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, উত্তেজনা বাড়লে তারা পারস্য উপসাগরে মাইন বিছিয়ে দেবে।
এখন দেখার বিষয়, পরমাণু বোমা বানানোর স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে ট্রাম্পের এই ‘প্যাক্ট’ গ্রহণ করে কি না ইরান। আগামী সপ্তাহেই স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের উপস্থিতিতে এই নিয়ে বড় মাপের আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

