বর্ণবিদ্বেষের শিকার লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণন, এক প্রতিভার অকাল পতনের নেপথ্য কাহিনি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের প্রাক্তন লেগস্পিনার লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণন নিজের কেরিয়ার ধ্বংসের পেছনে বর্ণবিদ্বেষের বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে পাকিস্তান সফরে অধিনায়ক সুনীল গাভাসকরের দেওয়া জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এক সতীর্থের ‘ডার্ক বয়ের জন্য ডার্ক চকোলেট’ মন্তব্য তাঁর আত্মবিশ্বাস চুরমার করে দিয়েছিল। এছাড়া চেন্নাইয়ে নেট প্র্যাকটিসের সময় এক সিনিয়রের তাঁকে গ্রাউন্ড স্টাফ ভেবে জুতো পরিষ্কার করতে বলা এবং গ্যালারি থেকে ‘কালিয়া’ সম্বোধন শিবাকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে ফেলে।
১৯৮৫ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর অনেকেই তাঁকে ৫০০ উইকেট শিকারি হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু বর্ণবৈষম্য ও সতীর্থদের অবমাননাকর আচরণে মাত্র ২১ বছর বয়সেই তাঁর লাল বলের ক্রিকেট কেরিয়ার থমকে যায়। শিবরামকৃষ্ণনের মতে, গায়ের রঙের কারণে বারবার হেয় হওয়ায় তিনি নিজের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন, যা মাঠের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে তাঁর এই পতনকে মাদকাসক্তির তকমা দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সম্প্রতি ধারাভাষ্যকার হিসেবেও বৈষম্যের শিকার হয়ে কাজ ছেড়েছেন এই প্রাক্তন ক্রিকেটার। তাঁর মতে, বর্ণবিদ্বেষের কারণেই তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হতো। পরিসংখ্যানের বিচারে শিবরামকৃষ্ণনের উইকেট সংখ্যা মাত্র ২৬ হলেও, তাঁর এই অকাল প্রস্থান শুধুমাত্র ক্রিকেটীয় ব্যর্থতা নয়, বরং এক কিশোর প্রতিভার মানসিক লড়াই ও বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে এক করুণ আর্তনাদ। একসময়ের উদীয়মান এই স্পিনারের গল্প এখন ক্রিকেটীয় ইতিহাসের এক অস্বস্তিকর অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে।

