পায়ের শিরা থেকে ফুসফুসে মারণ থ্রম্বোসিস, চিকিৎসকদের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচলেন প্রৌঢ়া – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মুম্বইয়ের এক ৫১ বছর বয়সি মহিলার প্রাণঘাতী ‘পালমোনারি এমবলিজম’ ধরা পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুরুতে পায়ের শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হলেও দ্রুত তা ফুসফুসের ধমনীতে পৌঁছে যায়, যার ফলে ওই রোগীর শ্বাসকষ্ট এবং কাশির সঙ্গে রক্ত বের হতে থাকে। পরিবার প্রথমে এটিকে ক্যানসার বা হৃদ্রোগ ভেবে ভুল করলেও চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ে যে, এটি আসলে শিরার ব্লকেজজনিত এক জটিল সমস্যা। অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থা থেকে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় অবশেষে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ওই নারী।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই রোগটি ‘ডিপ ভেন থ্রম্বোসিস’ থেকে শুরু হয়ে ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক আকার ধারণ করে। সাধারণত দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করা এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, কেবল বয়স্করাই নন, ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। পায়ের পেশিতে ক্রমাগত টান ধরা, গোড়ালি ফুলে যাওয়া এবং সেই সঙ্গে বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হওয়া এই রোগের প্রধান উপসর্গ, যা অনেক সময় যক্ষ্মা বা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণের সঙ্গে গুলিয়ে যায়।
এই মারণ ব্যাধি রুখতে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পালমোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি, সিটি স্ক্যান এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগের ব্যাপ্তি বুঝে চিকিৎসা শুরু করা হয়। বর্তমান জীবনযাত্রায় অনিয়ম ও শরীরচর্চার অভাবকে এই রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন চিকিৎসকরা। তাই পায়ের ব্যথা বা শ্বাসকষ্টকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে রক্ত জমাট বাঁধার মতো জটিল পরিস্থিতি শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

