আমেরিকার জন্য অপেক্ষা করছে ভয়ংকর চমক! হরমুজের পর এবার কি তবে অবরুদ্ধ হবে বাব এল-মান্দাব? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক
আমেরিকা যদি ইরানের ওপর সামরিক চাপ আরও বাড়ায়, তবে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথগুলোতে ‘নতুন ও চমকপ্রদ ফ্রন্ট’ খুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। সম্প্রতি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি জটিল হলে বাব এল-মান্দাবসহ একাধিক নৌপথে অচলাবস্থা তৈরি করা হতে পারে।
রণকৌশলে নতুন মোড়
সামরিক সূত্রের দাবি, শত্রুপক্ষ দক্ষিণ ইরানে কোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নিলে এমন পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে যা তাদের কল্পনাকেও হার মানাবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই এই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। মূলত ভারত মহাসাগরকে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা বাব এল-মান্দাব প্রণালীটি অবরুদ্ধ হলে সুয়েজ ক্যানেল হয়ে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
বিপর্যস্ত হতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়। এই পথে বাধা সৃষ্টি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হবে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর বা ওমান সাগরে নৌবাহিনীর মাধ্যমে চাপ তৈরির চেষ্টা হলে তারা সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে। আসালুয়ে-এর সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইজরায়েলি হামলার প্রসঙ্গ টেনে ইরান সাফ জানিয়েছে, তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।
বর্তমানে ইরানের উন্নত ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং উপকূলীয় মাইনের ভয়ে বহু শিপিং সংস্থা এই পথ এড়িয়ে চলছে। পশ্চিমী দেশগুলো সমুদ্রপথ সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই নতুন হুঁশিয়ারি বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

