ট্রাম্পের আলোচনার প্রস্তাব কি স্রেফ ফাঁদ? কেন মুখ ফেরাল ইরান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ‘ফলপ্রসূ আলোচনার’ দাবি করলেও তা সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, ওয়াশিংটনের সাথে কোনো বৈঠকই হয়নি। এমনকি দেশটির এক সামরিক মুখপাত্র বিদ্রুপ করে বলেছেন, মার্কিনিরা হয়তো “নিজেদের সাথেই কথা বলছে।”
অবিশ্বাসের দেওয়াল ও হামলার ইতিহাস
গত এক বছরে দুইবার আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিবারই বৈঠকের পর ইরান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও আমেরিকা। তেহরানের দৃষ্টিতে, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ থামেনি বরং তাদের ওপর হামলার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এই চরম অবিশ্বাসের কারণেই ট্রাম্পের বর্তমান প্রস্তাবকে সন্দেহের চোখে দেখছে ইরান।
কঠোর সুরের আড়ালে দরকষাকষি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কঠোর অবস্থান আসলে আলোচনার টেবিলে নিজেদের পাল্লা ভারী করার কৌশল। ইরান বর্তমানে সরাসরি আলোচনায় বসার মতো পরিস্থিতিতে নেই। দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সংস্কারপন্থীরা চাপের মুখে রয়েছেন, কারণ আমেরিকার সাথে সমঝোতার বিরোধিতা করছে কট্টরপন্থীরা।
স্ট্রেট অফ হরমুজ ও জ্বালানি অস্ত্র
সংঘর্ষ বাড়লে ইরান তার অন্যতম বড় শক্তি ‘স্ট্রেট অফ হরমুজ’ ব্যবহারের হুমকি দিচ্ছে। এই রুট বন্ধ হলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। এই জ্বালানি সংকটকে হাতিয়ার করেই ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে তেহরান।
পরমাণু চুক্তি ও ভেঙে যাওয়া বিশ্বাস
২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে ট্রাম্পের আমলেই আমেরিকা সরে আসায় ইরান এখন কোনো গ্যারান্টি ছাড়া চুক্তিতে ফিরতে নারাজ। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাবটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব করার শর্ত রয়েছে, যা মেনে নেওয়া তেহরানের জন্য কঠিন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্পের জন্য এই জট খোলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ইরান কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা চায় যাতে আলোচনার পর ফের হামলার শিকার হতে না হয়।

