বিশ্বজুড়ে জ্বালানি হাহাকার: তেলের দাম সামলাতে অদ্ভুত সব পদক্ষেপ বিভিন্ন দেশে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মিয়ানমার থেকে নাইজেরিয়া, কিংবা ভিয়েতনাম থেকে থাইল্যান্ড—সব দেশই এখন তেলের আকাশছোঁয়া দাম ও সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশগুলো অদ্ভুত ও কঠোর সব কৌশল অবলম্বন করছে।
জ্বালানি বাঁচাতে কে কী করছে
- মিয়ানমারে কঠোর রেশনিং: জ্বালানি সংকটে মিয়ানমারে কিউআর কোড ভিত্তিক রেশনিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে শুরু করে মোটরসাইকেল—সবক্ষেত্রে তেলের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তাহে এক দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- নাইজেরিয়ায় সিএনজি ও ইভি রূপান্তর: পেট্রোলের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় নাইজেরিয়া সরকার দ্রুত সব যানবাহনকে প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) ও বৈদ্যুতিক যানে (ইভি) রূপান্তরের বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য দেওয়া হচ্ছে সাশ্রয়ী কিট।
- ভিয়েতনামে কর মওকুফ: তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জ্বালানির ওপর থেকে পরিবেশ কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভিয়েতনাম সরকার। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের বাসা থেকে কাজ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
- থাইল্যান্ডে এসি ও পোশাকে নিয়ন্ত্রণ: থাইল্যান্ডে ডিজেল সংকট এতটাই প্রকট যে সরকারি দফতরে এসি ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি গরম কমাতে সরকারি কর্মীদের হালকা ও হাফহাতা পোশাক পরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে কর্মকর্তাদের সব বিদেশ সফর।
- কেনিয়ায় পচনশীল পণ্যে অগ্রাধিকার: জ্বালানি সংকটে বাণিজ্য সচল রাখতে ফুল ও ফলের মতো পচনশীল পণ্য দ্রুত খালাসে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে কেনিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ।
যুদ্ধ আর সরবরাহ সংকটের এই প্রভাব কতদিন চলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে সাধারণ মানুষ। প্রতিটি দেশই এখন বিকল্প জ্বালানি এবং কঠোর সাশ্রয়ী নীতির মাধ্যমে এই মহানির্কট থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে।
