আকাশ থেকে নামছে মৃত্যু আর ধ্বংসের লেলিহান শিখা, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ৩০ দিনের ১৩টি হাড়হিম করা ছবি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যকার এই যুদ্ধ এখন চরম পর্যায়ে। গত ৩০ দিনে মধ্যপ্রাচ্য যা দেখেছে, তা হয়তো গোটা বিশ্বের কল্পনাতেও ছিল না। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই তাণ্ডবে জনজীবন পুরোপুরি স্তব্ধ। মানুষ প্রাণ বাঁচাতে হন্যে হয়ে ঘুরছে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তেহরান থেকে বৈরুত—সবখানেই এখন বারুদের গন্ধ।
যুদ্ধের সেই ১৩টি ভয়ংকর মুহূর্ত যা নাড়া দেবে আপনার বিবেককে
১ মার্চ তেহরানের ওয়ালি আসর চকে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর ছবি হাতে এক শোকাতুর নারী। ২ মার্চ ইজরায়েলের বেত শেমেস কবরস্থানে ইরানি মিসাইল হামলায় নিহত মা ও মেয়ের শেষ বিদায়ে স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ। একই দিনে ইজরায়েলে সাইরেন বাজতেই প্রাণভয়ে সাধারণ মানুষের মাটিতে শুয়ে পড়ার দৃশ্য যুদ্ধের ভয়াবহতা মনে করিয়ে দেয়।
৩ মার্চ ইরানের মিনাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিমান হামলায় প্রাণ হারায় ১৭৫ জন শিশু ও শিক্ষক। সিরিয়ার কামিশলি বিমানবন্দরের কাছে মাটিতে গেঁথে থাকা এক বিশাল মিসাইলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক শিশুর ছবি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ৬ মার্চ লেবাননের বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং ৯ মার্চ ইরানের নতুন নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনেইর দায়িত্ব গ্রহণ যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর ইঙ্গিত দেয়।
এই যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে সুদূর ভারতেও। ১২ মার্চ নয়ডায় এক বালকের খালি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষা প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কীভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। এ ছাড়া ইরাকে নিহত ফরাসি সেনার কফিন থেকে শুরু করে বৈরুতের স্টেডিয়ামে অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া শিশুদের করুণ মুখগুলো যুদ্ধের এক নিষ্ঠুর দলিল হয়ে থাকবে। ২৪ মার্চ তেল আভিভে মিসাইল হামলায় জ্বলন্ত গাড়ি কিংবা ২৭ মার্চ তেহরানের বিধ্বস্ত আবাসিক ভবন—সবই বলছে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের কথা।

