লেটেস্ট নিউজ

কমছে মাতৃমৃত্যুর হার তবে ভিলেন সেই করোনা! ল্যানসেটের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিগত কয়েক দশকে বিশ্বজুড়ে মাতৃমৃত্যুর হার বা মেটারনাল মর্টালিটি রেট (MMR) কমলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই উন্নতির গতি থমকে গেছে। বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত একটি বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থা এবং সন্তান প্রসবজনিত কারণে নারীদের মৃত্যু এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে গর্ভবতী নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।

গবেষণায় উঠে এসেছে যে কোভিড-১৯ মহামারি মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২০ এবং ২০২১ সালে অতিমারির কঠিন সময়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়ায় গর্ভবতী নারীরা সময়মতো চিকিৎসা পাননি। এর ফলে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার অতিরিক্ত মাতৃমৃত্যু হয়েছে বলে গবেষকদের অনুমান।

কী এই মেটারনাল মর্টালিটি রেট

গর্ভাবস্থা, প্রসবকাল বা প্রসবের এক বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কারণে কোনো নারীর মৃত্যু হলে তাকে মাতৃমৃত্যু বলা হয়। প্রতি ১ লক্ষ শিশু জন্মের বিপরীতে কতজন মায়ের মৃত্যু হচ্ছে, সেই পরিসংখ্যানকেই বলা হয় এমএমআর (MMR)। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বর্তমানে এই হার প্রতি লক্ষে ১৯০ জন। ১৯৯০ সালের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে এটি এখনও অনেক দূরে। রাষ্ট্রপুঞ্জের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৭০-এর নিচে নামিয়ে আনা। তবে ২০৪টি দেশের মধ্যে ১০৪টি দেশ এখনও এই লক্ষ্য থেকে অনেক পিছিয়ে।

ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি

মাতৃমৃত্যু রোধে ভারত গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। ১৯৯০ সালে ভারতে যেখানে প্রতি ১ লক্ষ জন্মে ৫৫৬ জন মায়ের মৃত্যু হতো, বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৭ জনে। তবে এসডিজি-র নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা (৭০-এর কম) অর্জন করতে ভারতকে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবা, জরুরি প্রসবকালীন যত্ন এবং প্রসূতিদের পুষ্টির ওপর আরও জোর দিতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মূলত প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, উচ্চ রক্তচাপ, সংক্রমণ এবং অসুরক্ষিত গর্ভপাতের মতো সমস্যাগুলোই মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসার মাধ্যমে রোধ করা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *