ভোট নিতে পারবেন অথচ দিতে পারবেন না: প্রিসাইডিং অফিসারের নামই কাটা গেল ভোটার তালিকা থেকে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক আজিজুল হক গত তিন দশক ধরে শিক্ষকতা করছেন এবং ১৯৯৭ সাল থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ অবাক করার মতো বিষয় হলো, আসন্ন নির্বাচনের দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নামই খুঁজে পাওয়া যায়নি। কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার ৩৯ নম্বর পার্টের এই ভোটার বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘অবৈধ’, যার ফলে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আজিজুল সাহেবের পরিবারের ১১ জন সদস্যের নাম তালিকায় থাকলেও রহস্যজনকভাবে কেবল তাঁর নামই বাদ পড়েছে। শুনানিতে মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট ও পাসপোর্টের মতো বৈধ নথিপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। অথচ কমিশন তাঁকে প্রিসাইডিং অফিসারের মতো সংবেদনশীল সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের যোগ্য বলে বিবেচনা করেছে। নিজের ভোটাধিকার হারিয়ে অন্য নাগরিকের ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পালন করা নিয়ে তিনি গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
নদীয়া জেলায় বর্তমানে বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়ায় নথিভিত্তিক অসামঞ্জস্য দেখিয়ে বহু পুরনো ও নিয়মিত ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সরকারি চাকুরিজীবীদের নাম বাদ পড়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশাসনিক জটিলতার এই শিকার আজিজুল হক এখন শেষ ভরসা হিসেবে ট্রাইব্যুনালে আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘকাল ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা একজন আধিকারিকের এই পরিস্থিতি নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার এক চরম বিড়ম্বনা হিসেবেই দেখা দিচ্ছে।

