হারিয়ে যাবে কাগজের চেক বই! শীঘ্রই আসছে আরবিআই-এর জাদুকরী ই-চেক – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের ব্যাংকিং পরিষেবায় বইতে চলেছে পরিবর্তনের মহাপ্রলয়। পকেটে আর ভারী চেক বই নিয়ে ঘোরার দিন শেষ হতে চলেছে। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) তাদের ‘পেমেন্টস ভিশন ২০২৮’ ডকুমেন্টে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। এবার প্রথাগত কাগজের চেকে সই করার বদলে সাধারণ মানুষ ব্যবহার করবেন ডিজিটাল ‘ই-চেক’।
কী এই ই-চেক এবং কীভাবে বদলে যাবে আপনার জীবন
আমরা সচরাচর বড় কোনো লেনদেনের জন্য চেক বইয়ের পাতা ছিঁড়ে কলম দিয়ে লিখে সই করি। ই-চেক হবে ঠিক এরই ডিজিটাল রূপ। এর জন্য কোনো ফিজিক্যাল চেক বইয়ের প্রয়োজন পড়বে না। গ্রাহকরা নিজেদের ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করেই এই ডিজিটাল চেক তৈরি করতে পারবেন। এতে থাকবে ডিজিটাল সিগনেচার, যা ইউপিআই (UPI) বা এনইএফটি (NEFT)-এর মতোই দ্রুত কাজ করবে। তবে এর বিশেষত্ব হলো, এতে চকের যাবতীয় আইনি সুরক্ষা ও বৈশিষ্ট্য বজায় থাকবে।
কেন কাগজের চেক সরাচ্ছে রিজার্ভ ব্যাংক
কাগজের চকের ক্ষেত্রে অনেক সময় ক্লিয়ারিং হতে দেরি হয়। এছাড়া চেক হারিয়ে যাওয়া, ছিঁড়ে যাওয়া বা সই না মেলার মতো ঝক্কি তো আছেই। সবথেকে বড় সমস্যা হলো চেক বাউন্স বা জালিয়াতি। ই-চেক চালু হলে এই জালিয়াতির ভয় কার্যত থাকবে না। ডিজিটাল রেকর্ড থাকার ফলে লেনদেন হবে স্বচ্ছ এবং দ্রুত। পাশাপাশি কাগজের ব্যবহার কমলে পরিবেশেরও সুরক্ষা হবে।
২০২৮ সালের মধ্যে আর কী কী লক্ষ্য আরবিআই-এর
শুধুমাত্র ই-চেক নয়, ডিজিটাল ইন্ডিয়াকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে আরও কিছু পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
- ২৪x৭ পেমেন্ট: বড় অঙ্কের লেনদেনের জন্য আরটিজিএস (RTGS) ও এনইএফটি (NEFT) ব্যবস্থাকে আরও সহজ করা হবে।
- আন্তর্জাতিক লেনদেন: ভারতীয় ইউপিআই-কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে যুক্ত করার কাজ চলছে, যাতে বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো বা আনা ইমেইল করার মতোই সহজ হয়ে যায়।
- ক্যাশলেস ইকোনমি: ছোট-বড় সব ক্ষেত্রেই যাতে মানুষ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহার করেন, সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে ব্যাংক।
সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব
একজন সাধারণ গ্রাহক হিসেবে আপনাকে আর চেক বই সামলানো বা ব্যাংকের লাইনে দাঁড়ানোর দুশ্চিন্তা করতে হবে না। বাড়িতে বসেই সুরক্ষিত উপায়ে বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন করা যাবে। বয়স্ক ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীদের জন্য এটি আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। তবে এই ডিজিটাল যুগে পা রাখতে গেলে সাধারণ মানুষকে সাইবার সুরক্ষা এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং নিয়ে আরও একটু সচেতন হতে হবে।

