বিজেপিই আসল অনুপ্রবেশকারী, তৃণমূলকে রুখতে কমিশনকে ব্যবহারের: অভিযোগ মমতার

মুর্শিদাবাদের নবগ্রামের জনসভা থেকে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলায় অনুপ্রবেশে আসলে ইন্ধন দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারই। বিজেপি বারংবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুললেও মমতা পাল্টা তোপ দেগে বলেন, “বিজেপি দলটাই আসলে অনুপ্রবেশকারী।” তাঁর দাবি, সীমান্ত থেকে কয়লাখনি সবই কেন্দ্রীয় বাহিনীর অধীনে, তা সত্ত্বেও রাজ্যের জনবিন্যাস পরিবর্তনের দায় কেন তৃণমূলের ওপর চাপানো হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, সরাসরি লড়াইয়ে জিততে না পেরে বিজেপি কমিশনের মাধ্যমে আধিকারিকদের বদলি করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, ভবানীপুরেই প্রায় ৪০ হাজার নাম কাটা হয়েছে, যার মধ্যে সিংহভাগই মহিলা। বহিরাগতদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বাংলাকে লক্ষ্য বানালে তৃণমূলও আগামী দিনে দিল্লিকে লক্ষ্য করেই এগোবে।
মমতার অভিযোগ, মালদা ও মুর্শিদাবাদসহ উত্তরবঙ্গের একাংশ এবং বিহারের কিছু জেলা নিয়ে বাংলাকে বিভক্ত করার গভীর চক্রান্ত ছিল বিজেপির, যা তিনি রুখে দিয়েছেন। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, বাংলার মাটি দখলের স্বপ্ন কোনওদিন পূরণ হবে না। কর্মীদের আশ্বস্ত করে নেত্রী জানান, তিনি আগামীর সুযোগ্য প্রজন্ম তৈরি করে দিয়েছেন, যারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। বাংলার মা-বোনেরাই রাজ্য রক্ষার প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করবেন।
নির্বাচনী কৌশলের দিকে ইঙ্গিত করে মুখ্যমন্ত্রী কর্মীদের নির্দেশ দেন, ভোটের শুরুতে বিজেপি জয়ের আবহ তৈরির চেষ্টা করলেও কর্মীরা যেন মাঠ না ছাড়েন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, চূড়ান্ত লড়াইয়ে জয় তৃণমূলেরই হবে। বাইরের রাজ্য থেকে লোক এনে ভোট করানোর প্রচেষ্টাকে ধিক্কার জানিয়ে মমতা বলেন, বাংলা ভাগ করার যে কোনও পরিকল্পনা আগামী দিনেও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।
