রাম-বাম আঁতাঁত বিতর্কে তোলপাড় বনগাঁ, বিজেপি প্রার্থীকে আপ্যায়নে ব্যস্ত সিপিএম নেতা

ছাব্বিশের নির্বাচনের আবহে ফের একবার রাজ্য রাজনীতিতে চর্চায় ‘রাম-বাম’ আঁতাঁত। বুধবার বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়াকে নিজের বাড়িতে বসিয়ে চা-মিষ্টি খাওয়ালেন সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক পঙ্কজ ঘোষ। উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর শ্রীপল্লি এলাকায় প্রচার চলাকালীন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল।
এদিন বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়া প্রচারে বেরিয়ে আচমকাই পঙ্কজবাবুর বাড়িতে উপস্থিত হন। অসুস্থ সিপিএম নেতার স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর আশীর্বাদও প্রার্থনা করেন তিনি। দুই নেতার মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে, যেখানে এলাকা ও রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অশোক কীর্তনিয়া জানান, বাম নেতা তাঁকে আশীর্বাদ করেছেন এবং জয়ী হলে বনগাঁয় সুশাসন প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, পঙ্কজ ঘোষ এই সাক্ষাৎকে নিছকই ‘রাজনৈতিক সৌজন্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাফ জানান, ভোটে দাঁড়িয়ে যে কেউ আশীর্বাদ চাইতে পারেন, তবে বিজেপির সঙ্গে সিপিএমের নীতিগত লড়াই আগের মতোই বজায় থাকবে।
তবে এই সৌজন্যের আবহকে মোটেই ভালো চোখে দেখছে না রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বনগাঁ জেলা সভাপতি তথা তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস বিষয়টিকে কটাক্ষ করে বলেন, “নিজেদের ভরাডুবি নিশ্চিত জেনেই এখন সিপিএম নেতাদের হাতে-পায়ে ধরছে বিজেপি।” বনগাঁ উত্তরের এই ঘটনাকে তৃণমূল ‘রাম ও বামের গোপন সমঝোতা’ হিসেবে প্রচার করছে। যদিও দুই শিবিরের নেতারাই দাবি করেছেন, এর সঙ্গে রাজনীতির চেয়ে সৌজন্যের সম্পর্কই বেশি গভীর। ভোটের মুখে এই চা-চক্র বনগাঁর জনমতের ওপর ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
