ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে চীনের মধ্যস্থতা: নেপথ্যে কি কেবলই শান্তি না অর্থনৈতিক স্বার্থ?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে চীনের মধ্যস্থতা: নেপথ্যে কি কেবলই শান্তি না অর্থনৈতিক স্বার্থ?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করতেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছে। তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতার মধ্যে এবার ‘শান্তি দূত’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে চীন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্তির ইঙ্গিত দিলেও যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এমন প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে একটি ‘পাঁচ দফা’ শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে বেইজিং, যার মূল লক্ষ্য অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা।

চীনের এই কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে মানবিকতার চেয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থই বেশি কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীন দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে ইরানের তেলের ৮০ শতাংশই কেনে বেইজিং। যুদ্ধের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে চীনের উৎপাদন খাত ও রপ্তানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বৈদ্যুতিক গাড়ি ও জল পরিশোধন প্রকল্পে চীনের বিশাল বিনিয়োগ এই শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

কূটনৈতিক ময়দানে বেইজিং নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প এক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এর আগে ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে সফল মধ্যস্থতা করেছিল তারা। তবে বর্তমান সংকটে চীনের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি বেইজিংয়ের নেই। তা সত্ত্বেও, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিজেকে একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রমাণ করতে মরিয়া, যা বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেই প্রতিফলিত করে। তবে এই শান্তি পরিকল্পনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কতটা গ্রহণ করবে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *