মালদায় বিচারকদের ওপর হামলা সরাসরি আদালতের কর্তৃত্বে আঘাত, নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট

মালদহের মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলাকালীন সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে গ্রামবাসীর হাতে বন্দি করার ঘটনায় নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর একটি ‘নির্লজ্জ হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বিচারকদের মনোবল ভেঙে আইনের শাসনকে বুড়ো আঙুল দেখানোর একটি সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।
আদালত এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি রাজ্য সরকারের কর্তব্য পালনে চরম ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে। খবর পাওয়ার পরেও পুলিশ ও প্রশাসন কেন বিচারকদের উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়নি, সেই নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, বিচারকদের ওপর এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক হামলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনে একে ‘ক্রিমিনাল কনটেম্পট’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজিপি-সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং আগামী ৬ এপ্রিল তাঁদের ভার্চুয়ালি হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সিবিআই বা এনআইএ তদন্তের ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছে আদালত।
উল্লেখ্য, বুধবার মালদহে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে বিক্ষোভ চলাকালীন তিন মহিলা বিচারকসহ সাতজনকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক তরজায় জড়িয়েছে তৃণমূল ও বিজেপি। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অনুপ্রবেশকারীদের দাপট নিয়ে সরব হয়েছেন। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন যে, বিজেপি জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার তালিকায় বহিরাগতদের নাম ঢোকানোর ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে বিচারকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার এই ঘটনা এবং রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ বর্তমানে রাজ্যের জনমহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
