মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়লেও নীতীশ কুমারের জন্য বরাদ্দ থাকছে জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা

বিহারের রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদলের আবহ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার প্রস্তুতি নিলেও নীতীশ কুমারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় কোনও কাটছাঁট করছে না প্রশাসন। বিহার সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পদত্যাগের পরেও নীতীশ কুমার সর্বোচ্চ স্তরের ‘জেড প্লাস’ (Z+) নিরাপত্তা বলয়ে থাকবেন। ‘বিহার স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, ২০০০’ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা তাঁর আসন্ন পদত্যাগের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
সম্প্রতি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ায় নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে সাংসদ হিসেবে নতুন ভূমিকা গ্রহণ করতে চলেছেন। চলতি মাসেই তিনি বিহার বিধান পরিষদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এই রদবদলের আবহে তাঁর নিরাপত্তা পর্যালোচনা করে সরকার জেড প্লাস ক্যাটাগরি বজায় রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, সাংবিধানিক নিয়ম মেনে বিধানসভা বা বিধান পরিষদের সদস্য না থেকেও কোনও ব্যক্তি ছয় মাস মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারেন, তবে নীতীশ কুমার দ্রুত পদ ছাড়তে পারেন বলেই জোরালো ইঙ্গিত মিলছে।
ভিআইপি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জেড প্লাস সুরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে গণ্য করা হয়। এই বিশেষ স্তরের নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকেন প্রায় ৩৬ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রক্ষী। যার মধ্যে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (CRPF) ১০ জনেরও বেশি কমান্ডো সার্বক্ষণিক প্রহরার দায়িত্ব পালন করেন। ফলে ক্ষমতার রদবদল ঘটলেও নীতীশ কুমারের চারদিকে সুরক্ষার এই নিশ্ছিদ্র বলয় অটুট থাকছে।
নীতীশ কুমারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হতে চলেছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা এখন তুঙ্গে। একদিকে জাতীয় রাজনীতিতে নীতীশ কুমারের পদার্পণ, অন্যদিকে বিহারে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া— সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে, তা এখন স্পষ্ট। নীতীশ কুমারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র রাজনৈতিক মহল।
