মমতার ভবানীপুরে ব্যবধান ঘোচাতে মরিয়া তৃণমূল, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিশেষ দায়িত্বে জাভেদ খান

মমতার ভবানীপুরে ব্যবধান ঘোচাতে মরিয়া তৃণমূল, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিশেষ দায়িত্বে জাভেদ খান

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে জয়ের ব্যবধান বাড়াতে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল হিসেবে এবার ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কসবার বিধায়ক তথা মন্ত্রী জাভেদ খানকে। মূলত এই ওয়ার্ডে গত কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপির লিড কমানো এবং শাসকদলের ভিত শক্ত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এর আগে ভবানীপুরের আটটি ওয়ার্ডের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী এবং কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের মধ্যে। তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সুব্রত বক্সীর অধীনে থাকা ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের যাবতীয় নির্বাচনী কাজ পরিচালনা করবেন জাভেদ।

বিগত কয়েকটি নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, ভবানীপুরের বেশ কিছু ওয়ার্ডে বিজেপির প্রভাব যথেষ্ট শক্তিশালী। বিশেষ করে ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের কাউন্সিলর থাকা সত্ত্বেও লোকসভা নির্বাচনে বার বার পিছিয়ে পড়েছে শাসকদল। ২০১৪ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত এই ওয়ার্ডে বিজেপি সন্তোষজনক লিড বজায় রেখেছে। সবশেষ ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও এই ওয়ার্ডে বিজেপি ১,৪৬৮ ভোটে এগিয়ে ছিল। বিধানসভা ভোটে এই পরাজয়ের ধারা রুখতেই জাভেদ খানকে ময়দানে নামিয়েছে তৃণমূল শীর্ষনেতৃত্ব।

জাভেদ খান নিজে একে ‘দায়িত্ব’ না বলে ‘দেখভালের কাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, বিধায়ক ও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে যে উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন, তা প্রতিটি মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের বর্ষীয়ান নেতা সুব্রত বক্সীর সম্মান বজায় রাখতে সরাসরি ‘দায়িত্ব’ শব্দটি ব্যবহার না করলেও, জাভেদকে মূলত ওই নির্দিষ্ট ওয়ার্ড থেকে লিড নিশ্চিত করার বড় চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে। মেয়র ফিরহাদ হাকিম যেমন নিজের কেন্দ্রের পাশাপাশি ভবানীপুরেও জোরদার প্রচার চালাচ্ছেন, জাভেদকেও ঠিক সেইভাবেই ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে ঘুঁটি সাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *