অমিত শাহের পাতে মালাইকারি ও কষা মাংস! ১৫ দিনের বঙ্গসফরের আগেই রসনা নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের টানা ১৫ দিন বাংলায় থাকার পরিকল্পনা ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। তবে এই সফরের রাজনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি এবার শিরোনামে উঠে এসেছে বাঙালির চিরন্তন খাদ্যাভ্যাস। শাহের বঙ্গসফরকে কটাক্ষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গেরুয়া শিবিরকে বিঁধে শাসকদলের পরামর্শ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বাংলায় আসছেনই, তখন যেন মুড়িঘণ্ট, পাবদা কিংবা চিংড়ি মালাইকারির মতো জম্পেশ সব পদ চেখে দেখতে ভুল না করেন।
তৃণমূলের এই ‘খাদ্য-তালিকা’ পেশের নেপথ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক কৌশল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস বোঝে না। কেন্দ্রীয় নেতাদের একাংশের আমিষ বিরোধী মনোভাবের রেশ টেনে তৃণমূলের দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির হেঁশেলে নিরামিষের খাঁড়া নেমে আসবে। অমিত শাহকে আমিষ পদের স্বাদ নেওয়ার এই ‘আমন্ত্রণ’ আসলে সাধারণ মানুষের মনে বিজেপির সম্পর্কে ‘নিরামিষাশী’ তকমা সেঁটে দেওয়ারই একটি প্রচ্ছন্ন প্রচেষ্টা।
পাল্টা জবাবে তৃণমূলের এই ‘নিরামিষ’ প্রচারকে নস্যাৎ করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে বিজেপি। সম্প্রতি গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীদের হাতে মাছ নিয়ে প্রচার করতে দেখা গিয়েছে। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বিবেকানন্দের আদর্শ মেনে তারা বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। বরং তৃণমূলের অপশাসনে মানুষ মাছ কেনার টাকা পাচ্ছে না বলেই তাদের অভিযোগ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন বা দুর্নীতির পাশাপাশি এবার ‘বাঙালিয়ানা’ ও ‘রসনা’ ভোটের ময়দানে অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। একদিকে তৃণমূল যেমন মাছ-মাংসের অনুষঙ্গে বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে বিজেপিও নিজেকে ঘোরতর আমিষভোজী বাঙালি হিসেবে তুলে ধরতে মরিয়া।
