‘পারফরম্যান্সই শেষ কথা’, শুভেন্দুর গড়ে তৃণমূল কর্মীদের ‘সাপ’ তাড়ানোর কড়া দাওয়াই অভিষেকের

পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নিচুতলার কর্মীদের কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার জেলার এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মিসভায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা মান-অভিমানের কোনো জায়গা নেই। তৃণমূলের পদে টিকে থাকার একমাত্র মাপকাঠি হলো ‘পারফরম্যান্স’। দলীয় প্রার্থীদের প্রতি কারো ব্যক্তিগত অসন্তোষ থাকলেও, নির্বাচনের স্বার্থে একজোট হয়ে লড়াই করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অভিষেকের কথায়, “দল যাঁকে প্রার্থী করেছে, তাঁকে জেতানোই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। আগামী ২০-২৫ দিন আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।”
সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক জানান, অঞ্চল সভাপতি থেকে শুরু করে প্রধান বা উপপ্রধান—কাজে গাফিলতি থাকলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। ভালো কাজের জন্য যেমন পুরস্কার মিলবে, তেমনই ব্যর্থতার জন্য জুটবে তিরস্কার। অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “আগে সাপ তাড়ান, তারপর ঝগড়া করবেন।” অর্থাৎ, আগে বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করাই যে এখন মূল লক্ষ্য, তা তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন। এছাড়া দলের নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’ প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখে বিশেষত কাঁথি উত্তর ও দক্ষিণ কেন্দ্রের ওপর বাড়তি জোর দেওয়ার কথা বলেছেন অভিষেক। গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, আগামী ২০-২১ দিনের কাজের ভিত্তিতেই ঠিক হবে ভবিষ্যতে কে কোন পদে বসবেন। নন্দীগ্রামসহ জেলার প্রতিটি আসনে বিরোধীদের এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। ভোট রিগিং রুখতে বুথকর্মীদের সতর্ক করে তিনি নির্দেশ দেন, নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই যেন কেউ বুথ ছেড়ে বেরিয়ে না আসেন। মূলত জেলাজুড়ে ঘাসফুলের আধিপত্য পুনপ্রতিষ্ঠাই এখন তাঁর প্রধান রণকৌশল।
