ভোটের মুখে তৃণমূলের বড় উইকেট পতন, নবগ্রামে শুভেন্দুর হাত ধরে বিজেপিতে বিদায়ী বিধায়ক

একুশের নির্বাচনের আগে ফের বড়সড় ভাঙন শাসক শিবিরে। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দিলেন নবগ্রামের দাপুটে বিদায়ী বিধায়ক কানাই চন্দ্র মণ্ডল। বৃহস্পতিবার কলকাতার হেস্টিংস কার্যালয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার মুখে নবগ্রামের এই হেভিওয়েট নেতার দলবদল মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কানাই চন্দ্র মণ্ডলের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ এবং বৈচিত্র্যময়। ২০১১ এবং ২০১৬ সালে বামফ্রন্টের টিকিটে নবগ্রাম থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে তৎকালীন তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে তৃণমূলের প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। তবে ২০২৬-এর আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল তাঁকে টিকিট না দিয়ে প্রণব চন্দ্র দাসকে প্রার্থী করার পর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। গত বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী সভাতেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি, যা তাঁর দলত্যাগের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টিকিট না পাওয়া এবং দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ থেকেই পুরনো ‘মেন্টর’ শুভেন্দু অধিকারীর শিবিরে ফিরে গেলেন কানাইবাবু। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি জানান, এলাকার মানুষের স্বার্থরক্ষা এবং উন্নয়নের লক্ষ্যেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। নবগ্রাম কেন্দ্রে কানাই মণ্ডলের ব্যক্তিগত প্রভাব যথেষ্ট শক্তিশালী। ফলে নির্বাচনের মুখে তাঁর এই পদক্ষেপ তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলে এবং বিজেপিকে কতটা অক্সিজেন দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তৃণমূলের ‘বড় উইকেট’ ফেলে শুভেন্দু অধিকারী মুর্শিদাবাদে পদ্ম শিবিরের জমি কতটা শক্ত করতে পারলেন, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
