গোপনে পারমাণবিক অস্ত্রাগার বাড়াচ্ছে চীন, সিচুয়ানে মিলল বিশাল স্থাপনার প্রমাণ

চীনের সিচুয়ান প্রদেশে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্রের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সিএনএন-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সাল থেকে স্থানীয় গ্রামবাসীদের উচ্ছেদ করে সেখানে অত্যন্ত গোপনে সামরিক স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, উচ্ছেদকৃত গ্রামগুলোর স্থানে এখন চীনের পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রের সহায়ক একাধিক নতুন ভবন ও শক্তিশালী অবকাঠামো দৃশ্যমান।
স্যাটেলাইট ইমেজ এবং চীনা সরকারি নথি পর্যালোচনা করে মার্কিন গোয়েন্দা ও বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে, বেইজিং কয়েক দশকের মধ্যে তাদের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক আধুনিকীকরণ অভিযান পরিচালনা করছে। সিচুয়ানে ‘সাইট ৯০৬’ নামে পরিচিত একটি স্থানে ৩৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের এক বিশাল রহস্যময় গম্বুজ তৈরি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউরেনিয়াম এবং প্লুটোনিয়ামের মতো তেজস্ক্রিয় পদার্থ আটকে রাখার উপযোগী করে এটি নকশা করা হয়েছে। এই স্থাপনাটি নতুন রাস্তার মাধ্যমে আশেপাশের আরও অন্তত তিনটি পারমাণবিক অস্ত্র ঘাঁটির সাথে যুক্ত।
এই অনুসন্ধানটি এমন এক সময়ে সামনে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আগামী মাসে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছানো। এর আগে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ট্রাম্প বেইজিং ও মস্কোকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি করতে আগ্রহী। তবে সিচুয়ানের বর্তমান চিত্র বলছে, চীনের সামরিক বাহিনী তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে আসার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।
উত্তরের সিচুয়ান উপত্যকায় ‘এক্সটিজিরোজিরোজিরোওয়ান’ সাংকেতিক নামের এই প্রকল্পটির মাধ্যমে চীন বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চায়। সাইট ৯৩১ এবং সাইট ৯০৬-এর মতো সুরক্ষিত ঘাঁটিগুলো বেইজিংকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রাণঘাতী যুদ্ধাস্ত্র উৎপাদক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এই স্থাপনাগুলোতে শেষ মুহূর্তের সরঞ্জাম সংযোজনের কাজ চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
