মার্কিন সেনার একজনও বেঁচে ফিরবে না, ইরানের হুঁশিয়ারিতে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের পাল্টা হিসেবে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতিমি। বৃহস্পতিবার ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, শত্রুপক্ষ যদি স্থল অভিযান চালানোর ধৃষ্টতা দেখায়, তবে তাদের একজন সেনাও যেন প্রাণ নিয়ে ফিরে যেতে না পারে। সেনাপ্রধানের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে।
সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে আমির হাতিমি জোর দিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেকোনো মূল্যে শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে হবে। তিনি জানান, শত্রুপক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তার কথায়, “আমাদের দেশ যুদ্ধের আতঙ্কে থাকবে আর শত্রুরা নিরাপদ থাকবে, তা হতে পারে না।” তিনি দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং যুদ্ধের ভীতি দূর করতে বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, পেন্টাগন ইরানে বড় ধরনের স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করে তারা এখন স্রেফ সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে। এই অভিযান শুরু হলে তা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র খারগ দ্বীপ এবং রণকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক লক্ষ্য হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের হামলায় অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই সামরিক উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পেন্টাগন কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সম্ভাব্য অভিযান কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের মানচিত্র বদলে দিতে সক্ষম।
