কালিয়াচকের তাণ্ডবে বিচারকের প্রাণভয়ে আর্তনাদ, রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনা

মালদহের কালিয়াচকে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন গণবিক্ষোভে প্রাণসংশয়ে পড়লেন খোদ বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা। বুধবার রাতে সুজাপুর ও কালিয়াচক এলাকায় উন্মত্ত জনতার হামলার মুখে পড়ে এক মহিলা বিচারকের কান্নায় ভেজা আর্তনাদ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। নিরাপত্তার অভাব বোধ করে তিনি কাতর আবেদন জানিয়েছেন যে, তাঁর যদি কোনো ক্ষতি হয় তবে আদালত যেন তাঁর ছোট সন্তানের দায়িত্ব নেয়। পাইলট কারহীন অবস্থায় একাকী বিচারকের এই অসহায় পরিস্থিতি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং বিচারব্যবস্থার সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এই ভয়াবহ ঘটনার খবর পৌঁছাতেই কড়া অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মালদহের পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যা দিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে। বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে কেন প্রশাসন ব্যর্থ হলো, সেই ব্যাখ্যা চেয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব এবং পুলিশ মহানির্দেশকের (DGP) কাছে হলফনামা তলব করেছে শীর্ষ আদালত। এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই মালদহের জেলাশাসক (DM) ও পুলিশ সুপারের (SP) বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বুধবার সন্ধ্যা থেকে ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার অভিযোগে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কালিয়াচক। জাতীয় সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় উন্মত্ত জনতা; চলে ব্যাপক ভাঙচুর ও পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর বৃষ্টি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হলেও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিস্তীর্ণ এলাকা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার ওপর এই হামলাকে ‘প্রশাসনিক ব্যর্থতার চরম নিদর্শন’ বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ আইনজীবীরা। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও এলাকায় ব্যাপক পুলিশি টহল জারি রয়েছে।
