ঝাড়গ্রামের ৪ আসনে প্রার্থী দিল বিজেপি বিক্ষুব্ধদের হিন্দু সুরক্ষা বাহিনী

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদল ঘটিয়ে চারটি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপির বিক্ষুব্ধ শিবির তথা ‘হিন্দু সুরক্ষা বাহিনী’। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, ঝাড়গ্রাম আসনে শুভাশিস কারক, গোপীবল্লভপুরে বিমল পাল এবং নয়াগ্রামে সুমি হেমব্রম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, বিনপুর কেন্দ্রে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন এনে প্রাক্তন বিজেপি মণ্ডল সভাপতি ভীম সরেনকে মনোনীত করেছে সংগঠনটি। মূলত স্থানীয় প্রার্থীকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং দলের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির প্রতিবাদেই এই বিদ্রোহ বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
বিনপুর কেন্দ্রের প্রার্থী বদল নিয়ে বিশেষ চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রথমে এই আসনে নিতাই সর্দারের নাম ঘোষণা করা হলেও পারিবারিক চিকিৎসার কারণে তিনি সরে দাঁড়ান। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েই লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন দীর্ঘদিনের বিজেপি সংগঠক ভীম সরেন। তাঁর অভিযোগ, মূল দল থেকে যাঁকে টিকিট দেওয়া হয়েছে তিনি বহিরাগত এবং কলকাতার বাসিন্দা। স্থানীয় নেতৃত্বকে অবহেলা করার প্রতিবাদে তিনি জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন পরিচিত সংগঠককে প্রার্থী করায় ওই এলাকায় বিজেপির চিরাচরিত ভোটব্যাঙ্কে ধস নামার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই ঝাড়গ্রাম বিজেপির অন্দরে ফাটল চওড়া হতে শুরু করে। দলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সরব হন নিচুতলার কর্মীরা। এর জেরে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে বেশ কিছু নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়, যাঁরা পরবর্তীতে একত্রিত হয়ে ‘হিন্দু সুরক্ষা বাহিনী’ গঠন করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর ভোট কাটাকাটির লড়াইয়ে শাসকদল বাড়তি সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, ঝাড়গ্রামের অন্দরে এই নয়া রাজনৈতিক মেরুকরণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে।
