হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তায় ৬০ দেশের বৈঠকে সরব ভারত, একমাত্র আমাদের নাবিকেরই প্রাণ গিয়েছে

হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তায় ৬০ দেশের বৈঠকে সরব ভারত, একমাত্র আমাদের নাবিকেরই প্রাণ গিয়েছে

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও তা উন্মুক্ত করার বিষয়ে ব্রিটেনের ডাকা ৬০ দেশের হাই প্রোফাইল বৈঠকে কড়া অবস্থান নিল ভারত। বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, যুদ্ধে লিপ্ত না হয়েও ভারতই একমাত্র দেশ যারা এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নিজেদের একাধিক নাবিককে হারিয়েছে। আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি বৈঠকে ভারতের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।

হরমুজ প্রণালীকে বিশ্বের ‘তৈল ধমনী’ হিসেবে গণ্য করা হয়। যুদ্ধের জেরে এই জলপথ অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের অর্থনীতিতে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, বৈঠকে বিদেশ সচিব ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু যে নয়াদিল্লি কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না, তা স্পষ্টভাবে বিশ্বমঞ্চে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভারতের জন্য হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের মোট তেলের চাহিদার ৪০ শতাংশ এবং বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ সার এই পথ দিয়েই সরবরাহ হয়। দীর্ঘ সময় এই পথ বন্ধ থাকলে ভারতের কৃষিজাত পণ্যের আমদানি-রপ্তানি, বিশেষ করে বাসমতী চালের বাণিজ্যে বড়সড় ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের ১৫ শতাংশ অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহ এই পথেই হয়ে থাকে। এই সামগ্রিক সংকটের কথা মাথায় রেখে ভারত অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

বৈঠকের শেষে ভারতের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, কোনো সামরিক সংঘাত নয়, বরং কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান সম্ভব। পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথ কন্টকমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আবেদন জানিয়েছে নয়াদিল্লি। অন্যথায় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে সতর্ক করেছে ভারত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *