গ্রেফতারের পরেও দাপট কমছে না কালিয়াচক হিংসার মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুলের

মালদার কালিয়াচকে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন হিংসার মূল চক্রী হিসেবে অভিযুক্ত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম এখন সিআইডির জালে। বুধবার রাতে কালিয়াচক-২ ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অজুহাতে স্থানীয়দের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি এমন চরমে পৌঁছায় যে, সাতজন বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রায় আট থেকে নয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রণক্ষেত্র তৈরি করে বিক্ষোভকারীরা, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছিল।
গ্রেফতারি এড়াতে নেপালে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিলেন মোফাক্কেরুল। তবে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে সিআইডি আধিকারিকরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, শ্রীঘরে যাওয়ার পথেই পুলিশ ও আধিকারিকদের সামনে রীতিমতো হম্বিতম্বি করতে দেখা যায় তাকে। তদন্তকারীদের সামনেই ফের মানুষকে উস্কানোর হুমকি দিচ্ছেন এই অভিযুক্ত। শুধু কালিয়াচক নয়, গত বছর মুর্শিদাবাদ এবং মোথাবাড়িতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হিংসার পিছনেও এই ব্যক্তির প্ররোচনা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
বর্তমানে এই ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ৩৫ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কালিয়াচক থানায় মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জনতাকে উত্তেজিত করার ক্ষেত্রে তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং পুরো বিষয়টি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে তাকে সরাসরি উস্কানি দিতে দেখা গিয়েছে। যদিও অভিযুক্তের দাবি, তিনি কেবল প্রতিবাদে সহায়তা করতে গিয়েছিলেন, তবে প্রশাসন তার এই দাবিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ।
