অষ্টম পে কমিশনে কি মূল বেতন হবে ৪৭,৬০০ টাকা? ২৪ এপ্রিল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে

অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর গঠিত এই কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আগামী ২৪ এপ্রিল উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুন সফর করবে কমিশনের প্রতিনিধি দল। সেখানে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, কর্মচারী ইউনিয়ন এবং পেনশনভোগী সংস্থাগুলির সঙ্গে বেতন কাঠামো, ভাতা ও চাকরি সংক্রান্ত নানা বিষয়ে সরাসরি আলোচনা করা হবে। যারা কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী, তাদের আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে নির্ধারিত ইমেল ঠিকানায় আবেদন জানাতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হলে সরকারি কর্মীদের বেতন ও পেনশনে প্রায় ৩০ থেকে ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বড়সড় বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। যদি ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ ২.০ থেকে ২.৫৭-এর মধ্যে নির্ধারণ করা হয়, তবে লেভেল-১ পর্যায়ের ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৪৬,২৬০ কিংবা ৪৭,৬০০ টাকা পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে লেভেল-৮ পর্যায়ের কর্মীদের বেতন ১.২২ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষের বেশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগী।
বর্তমানে কমিশন বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পরামর্শ ও মতামত সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে চালাচ্ছে। সংস্থা বা ব্যক্তিদের মতামত জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল। এর আগে ৩১ মার্চ ছিল প্রশ্নাবলী জমা দেওয়ার অন্তিম সময়। দেরাদুন সফরের বৈঠকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত রূপরেখায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই কমিশনের হাত ধরেই ২০২৬ সাল নাগাদ কেন্দ্রীয় কর্মীদের পে-ম্যাট্রিক্স এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
