খোলাখুলি রাজনৈতিক প্রচারের অভিযোগ খণ্ডঘোষের এআরও-কে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন

খোলাখুলি রাজনৈতিক প্রচারের অভিযোগ খণ্ডঘোষের এআরও-কে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন

নির্বাচনের মুখে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কড়া অবস্থান নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সরকারি পদে থেকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে ‘খোলাখুলি প্রচার’ করার গুরুতর অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার (এআরও) তথা জয়েন্ট বিডিও জ্যোৎস্না খাতুনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করারও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, জ্যোৎস্না খাতুনের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি বিশেষ দলের হয়ে সক্রিয়ভাবে জনমত গঠনের অভিযোগ ওঠে। নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি (মডেল কোড অফ কনডাক্ট) লঙ্ঘনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পরেই দ্রুত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত কোনো আধিকারিকের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বা প্রশাসনিক শিথিলতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

রাজ্য প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন আপসহীন। সাম্প্রতিক সময়ে মালদহ থেকে ভবানীপুর— বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আধিকারিকদের যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, খণ্ডঘোষের এই ঘটনা তারই প্রতিফলন। ভোটের কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের যে অত্যন্ত সতর্ক এবং নিরপেক্ষ থাকতে হবে, এই সাসপেনশন সেই বার্তাই আরও জোরালো করল।

আপাতত খণ্ডঘোষ কেন্দ্রে নতুন কাউকে এআরও হিসেবে নিয়োগ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে ভোটের চূড়ান্ত প্রস্তুতির মুখে জয়েন্ট বিডিও পদমর্যাদার এক আধিকারিকের ওপর এমন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ জেলা প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোরগোল তৈরি করেছে। স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন আগামী দিনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *