পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ছায়ায় বিশ্বজুড়ে হু হু করে বাড়তে পারে খাদ্যের দাম

পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ছায়ায় বিশ্বজুড়ে হু হু করে বাড়তে পারে খাদ্যের দাম

পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত যদি ৪০ দিনের গণ্ডি ছাড়িয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্বজুড়ে খাদ্যদ্রব্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থার ‘খাদ্য মূল্য সূচক’ অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে গড় সূচক দাঁড়িয়েছে ১২৮.৫ পয়েন্টে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২.৪ শতাংশ বেশি। জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম সরাসরি খাদ্য উৎপাদন ও পরিবহণ খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো সতর্ক করেছেন যে, উৎপাদন খরচ বাড়লে চাষিরা সার ব্যবহারে কাটছাঁট করতে পারেন, যার ফলে সামগ্রিক উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে গমের দাম ৪.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পেছনে আমেরিকার খরা এবং অস্ট্রেলিয়ার চড়া উৎপাদন খরচকে দায়ী করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ভোজ্য তেলের বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়েছে; পাম, সয়াবিন ও সরিষার তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৫.১ শতাংশ। ব্রাজিলে চিনি উৎপাদনের বদলে ইথানল তৈরির প্রবণতা বাড়ায় চিনির দামও ৭.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে চালের বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গিয়েছে। পর্যাপ্ত মজুত এবং আমদানির চাহিদা কম থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, চলতি বছরে বিশ্বে গমের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ১.৭ শতাংশ কমে ৮২০ মিলিয়ন টনে দাঁড়াতে পারে। মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের দামেও সামান্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনে সাধারণ মানুষের হেঁশেলের খরচ নির্ধারিত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *