মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড তৃণমূলের মঞ্চে, শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

মালদহের মোথাবাড়িতে বিচারকদের ওপর নজিরবিহীন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। এই অশান্তির নেপথ্যে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদত রয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ধৃত মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলাম তৃণমূলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং তাঁকে শাসকদলের বিভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা গিয়েছে। শুভেন্দুর মতে, কলকাতায় বসে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বই এই হিংসার নীল নকশা তৈরি করেছেন, যা আদতে বিচারব্যবস্থাকে ভয় দেখানোর একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
পাল্টা আক্রমণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে বিজেপির সাজানো ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। হরিরামপুরের জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনিক রদবদলের সুযোগ নিয়ে বিজেপি বহিরাগতদের মাধ্যমে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এনআইএ পৌঁছানোর আগেই রাজ্য পুলিশের সিআইডি অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে মূল অভিযুক্তকে বাগডোগরা থেকে গ্রেফতার করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ধৃত ব্যক্তি আসলে মহারাষ্ট্র থেকে আসা বিজেপির ইন্ধনপুষ্ট একজন এজেন্ট।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সামাজিক মাধ্যমে প্রমাণের পাহাড় হাজির করার দাবি জানিয়ে লিখেছেন, তৃণমূল অতীতেও বিচারকদের এজলাসে বাধা দিয়ে বা কুরুচিকর আক্রমণ শানিয়ে বিচারব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করেছে। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রী এখন ‘মিথ্যার ফুলঝুরি’ ছুটিয়ে অভিযুক্তকে বিজেপির ঘুঁটি হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছেন, যদিও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশেষ করে নারী বিচারকদের ওপর এই আক্রমণ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার কঙ্কালসার চেহারা প্রকাশ করে দিয়েছে বলে বিজেপি দাবি করছে।
মালদহের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিআইডি ও এনআইএ-র আইনি লড়াই এবং শাসক-বিরোধী তরজা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা, অন্যদিকে রাজ্য পুলিশ নিজের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মোফাক্কেরুলের রাজনৈতিক পরিচয় এবং হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনা বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
