পরিবেশ রক্ষায় অভিনব উদ্যোগ শহরে আয়োজিত হলো নোয়িং ক্লাইমেট চেঞ্জ কর্মশালা

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ কর্মশালা ‘নোয়িং ক্লাইমেট চেঞ্জ’। স্কটিশ চার্চ কলেজ, ‘টেরি স্কুল অফ অ্যাডভান্সড স্টাডিজ়’ এবং বন্যপ্রাণপ্রেমী সংস্থা ‘শের’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শহরের ২৮টি স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ ছিল ‘ক্লাইমেট অ্যাম্বাসাডর’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ে পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন স্কটিশ চার্চ কলেজের অধ্যক্ষা মধুমঞ্জরী মণ্ডল ও অধ্যাপক রঞ্জনা রায়চৌধুরী।
কর্মশালার বিভিন্ন অধিবেশনে জলবায়ু বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিকগুলো তুলে ধরা হয়। অবসরপ্রাপ্ত বনকর্তা দেবল রায় গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাব ও প্রশাসনিক নীতি নিয়ে আলোচনা করেন, অন্যদিকে অধ্যাপক রঞ্জনা রায়চৌধুরী ‘ক্লাইমেট স্মার্ট সিটি’ ও বিশ্ব উষ্ণায়নজনিত খাদ্য-জল সংকটের বিষয়ে আলোকপাত করেন। সাংবাদিক জয়ন্ত বসু আন্তর্জাতিক জলবায়ু কূটনীতি ও সুন্দরবনের বাস্তব পরিস্থিতির নিরিখে স্থানীয় সংকটের কথা ব্যাখ্যা করেন। প্রতিটি অংশগ্রহণকারীকে পরিবেশ সংক্রান্ত বিশেষ পুস্তিকা ‘অ্যান্থ্রোপোসিন’ প্রদান করা হয়।
প্রযুক্তিগত অধিবেশনে অধ্যাপক অমিতাভ রায় আরটি-পিসিআর ও স্পেক্ট্রোফোটোমিটারের মতো আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে দূষণ বিশ্লেষণের পদ্ধতি প্রদর্শন করেন। পাশাপাশি, রাতুল ঘোষ আলোচনা করেন জলবায়ু বিজ্ঞানে কৃত্রিম মেধা (AI) ও মেশিন লার্নিংয়ের বৈপ্লবিক ব্যবহার নিয়ে, যেখানে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ শনাক্তকরণে প্রযুক্তির প্রয়োগ বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ অমিতা প্রসাদ শিক্ষার্থীদের ‘জলবায়ুর চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার আহ্বান জানান। পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ আগামী দিনে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আয়োজকরা আশাবাদী।
