স্বাধীনতার পর প্রথমবার নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে কলকাতা পুরসভা, ব্যাহত হতে পারে নাগরিক পরিষেবা

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সরাসরি কমিশনের অধীনে চলে গেল। কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে কলকাতা পুরসভার কমিশনারের দপ্তর উত্তর কলকাতার নির্বাচনী আধিকারিকের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বর্তমানে পুর কমিশনার পদে আসীন আইএএস অফিসার সুমিত গুপ্তই উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের গুরুদায়িত্ব সামলাবেন।
এই বেনজির রদবদলের ফলে কলকাতা পুরসভার স্বায়ত্তশাসন কার্যত এখন কমিশনের হাতে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে পুরসভার যেকোনো নিত্যনৈমিত্তিক কাজের জন্য কমিশনের আগাম অনুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি পুরসভার নিয়মিত অধিবেশন ডাকা বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক করার ক্ষেত্রেও কমিশনের সবুজ সংকেত ছাড়া এগোনো সম্ভব নয়। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে শহরের সামগ্রিক প্রশাসনিক কাঠামোয় এক আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে।
পুরসভা সরাসরি কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আসায় নাগরিক পরিষেবা থমকে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাস্তা পরিষ্কার, জঞ্জাল অপসারণ কিংবা গাছ কাটার মতো সাধারণ কাজের জন্যও এখন কমিশনের দীর্ঘসূত্রিতার মুখে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। যদিও পুর কমিশনার এক বিবৃতিতে আশ্বস্ত করেছেন যে, সাধারণ মানুষের জন্য ন্যূনতম ও জরুরি পরিষেবাগুলো সুনিশ্চিত করা হবে। তবে কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপে সাধারণ নাগরিকরা কতটা স্বস্তিতে থাকবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে কমিশনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। রাজ্যের শাসক শিবিরের দাবি, নির্বাচনের আগে একের পর এক আধিকারিক বদলির পর এবার গোটা পুরসভা ‘দখল’ করার এই সিদ্ধান্ত অভাবনীয় ও অনভিপ্রেত। অতীতে নির্বাচনের সময় পুরসভা কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করলেও, সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এই ঘটনাকে প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। সব মিলিয়ে ভোটমুখী কলকাতায় পুর-প্রশাসন ও কমিশনের এই সমীকরণ এখন টক অফ দ্য টাউন।
