চার ধাম যাত্রার মুখে ঋষিকেশে তীব্র গ্যাস সংকট, উনুনের ধোঁয়ায় বিপাকে হোটেল ব্যবসায়ীরা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হতে শুরু করেছে। এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে, যেখানে চার ধাম যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে রান্নার গ্যাসের তীব্র হাহাকার দেখা দিয়েছে। গত ৩৫ দিন ধরে চলা আন্তর্জাতিক অস্থিরতার জেরে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে ঋষিকেশের হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকরা চরম বিপাকে পড়েছেন এবং ব্যবসা সচল রাখতে বাধ্য হয়ে আদিম পদ্ধতির কাঠ ও কয়লার উনুনে রান্না সারছেন।
স্থানীয় রেস্তোরাঁ মালিকদের মতে, কমার্শিয়াল কানেকশন থাকা সত্ত্বেও গ্যাস এজেন্সিগুলো পর্যাপ্ত সিলিন্ডার সরবরাহ করতে পারছে না। গত ১৫-২০ দিন ধরে চলা এই অচলাবস্থায় অনেক ব্যবসায়ী তাঁদের রান্নাঘর সচল রাখতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করছেন। তবে বিকল্প পদ্ধতিতে রান্না করা সময়সাপেক্ষ এবং শ্রমসাধ্য হওয়ায় অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষ ব্যবসা বন্ধ রাখার কথা ভাবছেন। ব্যবসায়ীরা সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত সমাধান না মিললে আসন্ন চার ধাম যাত্রার সময় খাবারের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা তীর্থযাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
এদিকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে কেন্দ্রীয় সরকার নজরদারি বাড়িয়েছে। ইনফরমাল গ্রুপ অফ মিনিস্টার্স (IGoM)-এর বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির ওপর চব্বিশ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। এই অনিশ্চিত সময়ে দেশের সাধারণ মানুষের ওপর যাতে বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব ন্যূনতম থাকে, তা নিশ্চিত করতে সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ঋষিকেশের বর্তমান চিত্র বলছে, সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গতি না ফিরলে পর্যটন ও তীর্থযাত্রা মৌসুমে বড়সড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে উত্তরাখণ্ডের পর্যটন শিল্প।
