মহিলা রেফারিকে লিঙ্গবৈষম্যমূলক কটাক্ষ করে বড় বিপদে নেইমার, অনিশ্চিত বিশ্বকাপ যাত্রা
/origin-imgresizer.eurosport.com/2026/01/01/image-32643e81-c26f-43c0-830c-e43dc67f2875-85-2560-1440.jpeg)
মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে ফের মাঠের বাইরের বিতর্কে শিরোনামে এলেন ব্রাজিলীয় তারকা নেইমার। স্যান্টোসের জার্সিতে খেলতে নেমে এক মহিলা রেফারিকে উদ্দেশ্য করে ‘অশ্লীল’ ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে ফুটবল মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারেন তিনি, যা তাঁর আগামী বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নকে কার্যত অনিশ্চিত করে তুলেছে।
ঘটনাটি ঘটে স্যান্টোস বনাম ক্লাব দে রেমোর মধ্যকার ম্যাচে। খেলার এক পর্যায়ে রেফারি স্যাভিও প্যারেইরা স্যামপাইও নেইমারকে হলুদ কার্ড দেখালে মেজাজ হারান তারকা এই ফুটবলার। ম্যাচ শেষে এক সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি রেফারিকে উদ্দেশ্য করে ‘চিকো’ শব্দটি ব্যবহার করেন। ব্রাজিলীয় ভাষায় এই শব্দটি মহিলাদের ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড চলাকালীন খিটখিটে মেজাজকে ইঙ্গিত করতে ব্যবহৃত হয়। নেইমারের এই মন্তব্যকে অত্যন্ত অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ফুটবল মাঠে একজন পেশাদার মহিলা রেফারির দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে এমন জৈবিক প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টানায় সরব হয়েছেন ক্রীড়া সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা।
এই ঘটনার জেরে নেইমারকে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। ব্রাজিলের ‘কোড অব স্পোর্টস জাস্টিস’-এর ২৪৩ জি অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেইমারকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে। আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তাঁর স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া আসাম্ভব হয়ে পড়বে। এর আগে একই ধরনের আচরণের জন্য অন্য এক ফুটবলারকে ১২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, যা নেইমারের ক্ষেত্রেও অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় ইতিমধ্যেই ফ্ল্যামিঙ্গোর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন নেইমার। কোচ কার্লো আন্সেলোত্তির গুড বুকে জায়গা করে নেওয়ার যখন মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তিনি, ঠিক তখনই এই ব্যক্তিগত আচরণ তাঁর ক্যারিয়ারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াল। নেইমারের মতো মহাতারকার থেকে এমন অপেশাদার আচরণ ফুটবল বিশ্বের নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। এখন ফুটবল ফেডারেশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে তাঁর পরবর্তী আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভাগ্য।
