নিয়োগ দুর্নীতিতে চাকরি হারানো কর্মী তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারে, সরব বিজেপি

রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আদালতের রায়ে চাকরি খোয়ানো অশিক্ষক কর্মী টুম্পা মেটেকে তৃণমূল প্রার্থীদের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। হুগলি জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য তথা রিষড়ার বাসিন্দা এই নেত্রীর বিরুদ্ধে বিজেপি অভিযোগ তুলেছে যে, তিনি ২০১৬ সালের প্যানেলে ঘুষ দিয়ে অশিক্ষক কর্মচারীর চাকরি পেয়েছিলেন। সম্প্রতি হুগলির শ্রীরামপুর ও উত্তরপাড়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে তাকে প্রচার করতে দেখা গেছে, যা নিয়ে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির।
ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে শ্রীরামপুরের বিজেপি প্রার্থী ভাস্কর ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, দুর্নীতি ও তৃণমূল এখন সমার্থক। তার মতে, সাধারণ মানুষকে সাবধান করতেই তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। বিজেপি নেতার অভিযোগ, টুম্পা মেটের মতো ব্যক্তিদের পাশে নিয়ে প্রচার করে তৃণমূল পরোক্ষভাবে দুর্নীতির পক্ষেই সওয়াল করছে। অযোগ্যদের এভাবে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে শাসকদল নিজেদের প্রকৃত পরিচয় সামনে আনছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় শ্রীরামপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষ বিজেপির যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, দলের জনসংযোগে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে বিজেপি আতঙ্কিত হয়ে এসব কৌশল অবলম্বন করছে। প্রার্থীর স্পষ্ট বক্তব্য, ব্যক্তিগত স্তরে কার বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বা কে কী করেছেন, তার দায় প্রার্থীর বা দলের ওপর বর্তায় না। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেন, নির্বাচনে প্রার্থী টুম্পা মেটে নন, বরং তিনি নিজে লড়ছেন এবং ব্যক্তিগত কোনো অভিযোগ থাকলে তা যেন সামনে আনা হয়।
নির্বাচনের প্রাক্কালে দুর্নীতির তকমা গায়ে থাকা এক কর্মীর রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং তা নিয়ে দুই শিবিরের এই বাগযুদ্ধ বর্তমানে হুগলির রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। একদিকে বিজেপি যখন দুর্নীতির ইস্যুকে হাতিয়ার করে জনমত গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূল বিষয়টিকে বিরোধীদের ভয় ও রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছে। সব মিলিয়ে নিয়োগ দুর্নীতি ও প্রচারের যোগসূত্র নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এখন তুঙ্গে।
