আইপিএল ম্যাচের ভিড়ে মোবাইল চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, আটক ১৩ জন উদ্ধার ৭৫টি ফোন

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হাইভোল্টেজ আইপিএল ম্যাচ চলাকালীন এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল এক মোবাইল চোর চক্র। খেলা দেখার উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে দর্শকদের পকেট থেকে একের পর এক মোবাইল হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। রবিবার স্টেডিয়াম চত্বরে ৩০টি মোবাইল চুরির অভিযোগ দায়ের হতেই তৎক্ষণাৎ অভিযানে নামে বেঙ্গালুরু পুলিশ। তদন্তে নেমে একটি বড়সড় চক্রের হদিস পায় তারা, যার প্রেক্ষিতে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৯ জন নাবালক।
তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ধৃতদের কাছ থেকে মোট ৭৫টি চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত আরও পাঁচটি ফোনও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। জেরায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই চক্রের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে জার্সি পরে দর্শকদের ভিড়ে মিশে যেত। মূলত বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে নাবালকদের বেঙ্গালুরুতে নিয়ে এসে মোবাইল চুরির বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। সন্দেহ এড়াতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে সুকৌশলে এই নাবালকদের ব্যবহার করত চক্রের পাণ্ডারা।
স্টেডিয়ামের গেট এবং গ্যালারিতে যখন দর্শকরা খেলার আমেজে অন্যমনস্ক থাকতেন, তখনই শুরু হতো হাত সাফাই। এমনকি পুলিশে ধরা পড়লে কী বলতে হবে, তাও ওই কিশোরদের শিখিয়ে দেওয়া হতো। ধৃত প্রাপ্তবয়স্কদের নাম শুভম কুমার, এশাল কুমার, সঞ্জিত কুমার ও সোহান কুমার। তাদের বয়স ২৩ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। অন্যদিকে, ৯ জন নাবালককে আদালতের নির্দেশে সরকারি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শুধুমাত্র বেঙ্গালুরু নয়, দেশের অন্যান্য শহরেও এই চক্রের জাল বিস্তৃত রয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
