রাহুল মৃত্যু রহস্যে উত্তাল টলিউড, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে লীনা ও শৈবালের বিরুদ্ধে এফআইআর

জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে তোলপাড় টলিউড। ওড়িশার তালসারিতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে গভীর রহস্য। ঘটনার জট খুলতে এবার অভিনেতা ও পরিচালক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর দায়ের করল ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার আর্টিস্ট ফোরাম। এই অভিযোগে সমর্থন জানিয়ে সই করেছেন প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় এই অভিযোগ দায়ের করে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আর্টিস্ট ফোরামের অভিযোগ অনুযায়ী, ম্যাজিক মোমেন্টস প্রযোজনা সংস্থার দুই ডিরেক্টর শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়সহ অন্যরা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। ওড়িশার বালেশ্বর জেলার তালসারি সামুদ্রিক থানা এলাকায় অত্যন্ত গাফিলতির সঙ্গে শুটিং পরিচালনা করার ফলেই রাহুলের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ফোরামের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, ঘটনার পর প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে মিথ্যা বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে। গত ২৯ মার্চ শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে ডুবে রাহুলের মৃত্যু হলেও, সেই সময় ঠিক কী কাজ চলছিল তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বয়ান আসায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এর আগে আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে ১ এপ্রিল প্রযোজনা সংস্থার কাছে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ২ এপ্রিল সেই চিঠির উত্তর মিললেও তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি ফোরামের সদস্যরা। শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে ফোরাম শনিবার থানায় অভিযোগ জানানোর কথা ঘোষণা করে। এমনকি বৃহস্পতিবার রাতে জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে আবেগঘন কণ্ঠে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন যে, রাহুলের সন্তান যেন অন্তত জানতে পারে তার বাবার মৃত্যু ঠিক কীভাবে হয়েছিল। সহকর্মীদের মনে দানা বাঁধা সন্দেহ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া জল্পনা দূর করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
এক প্রতিভাবান অভিনেতার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু টলিউডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শুটিং ফ্লোরের কাজের পরিবেশ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। গত ২৯ মার্চের সেই কালো দিনে রাহুল ঠিক কী পরিস্থিতিতে সমুদ্রের জলে তলিয়ে গিয়েছিলেন, তা এখনো ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। কেন ও কীভাবে এই ঘটনা ঘটল— এই একটিমাত্র প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন মরিয়া গোটা শিল্পী মহল। পুলিশের তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলেই আশা করছেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা।
