কেরলের পর এবার আসামেও জ্বালানি সংকটের মধ্যে বছরে ২টি ফ্রি সিলিন্ডারের প্রতিশ্রুতি, বিতর্কে হিমন্ত

আসামে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বড়সড় চমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। রাজ্যের ক্ষমতায় ফিরলে প্রতিটি পরিবারকে বছরে দুটি করে এলপিজি সিলিন্ডার বিনামূল্যে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। মূলত সাধারণ মানুষের আর্থিক বোঝা লাঘব এবং বিশেষ করে মহিলাদের রান্নার খরচ কমাতে এই জনমুখী প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছে বিজেপি। নির্বাচনের আগে এই ধরনের প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মন জয়ে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তবে এই ঘোষণা ঘিরেই রাজ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধীদের দাবি, এটি স্রেফ একটি নির্বাচনী চমক ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমান সময়ে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে ভারতে জ্বালানি সরবরাহ ও দাম নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় এই বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি নির্ভর প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। তাদের অভিযোগ, দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সংকটের কথা মাথায় না রেখে কেবল ভোট পাওয়ার লক্ষ্যেই এই ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আশ্বস্ত করেছেন যে আসামে বর্তমানে গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। বিজেপির দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্ভব। এই উদ্যোগের ফলে রাজ্যের দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি সরাসরি উপকৃত হবে বলে শাসক দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের ওপর পড়বেই, যা ভবিষ্যতে সরকারি কোষাগারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের আসাম নির্বাচনে ‘কল্যাণমূলক রাজনীতি’ বা জনমোহিনী প্রকল্পগুলোই প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে চলেছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই মাস্টারস্ট্রোক সেই কৌশলেরই একটি অংশ। তবে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে কতটা অনুকূল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। নির্বাচনকে ঘিরে এই রাজনৈতিক তরজা আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
