ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে ড্রাগনের চাল

ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে ড্রাগনের চাল

দীর্ঘ অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে চিনের ভূমিকা। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, চিনের জোরালো হস্তক্ষেপ ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব ছিল না। এই ঘোষণার পর ভূ-রাজনীতিতে পাকিস্তানের প্রভাব নিয়ে যে জল্পনা ছিল, তা কার্যত ফিকে হয়ে গিয়েছে।

নেপথ্যে চিনের সূক্ষ্ম কূটনীতি

চিন সরাসরি এই সংঘাতে অংশ না নিলেও পর্দার আড়াল থেকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে কূটনীতির চাল চেলেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, পাকিস্তান ও মিশরের মতো দেশগুলোকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে ইরানকে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে বেইজিং। চিন ইরানকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে যে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি যেমন ধসে পড়বে, তেমনই ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকটও চরম আকার ধারণ করবে। যদিও চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং একে বিশ্ব শান্তির স্বার্থে একটি ‘দায়িত্বশীল পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

হরমুজ প্রণালী ও রাশিয়ার সঙ্গ

যুদ্ধবিরতির ঠিক আগে হরমুজ প্রণালী নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে চিনের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুতে রাশিয়া ও চিন যৌথভাবে ভেটো প্রদান করে। আমেরিকার পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের কড়া নিন্দা জানানো হলেও, বিশেষজ্ঞরা একে বেইজিংয়ের দ্বিমুখী কৌশল হিসেবে দেখছেন। একদিকে তারা আমেরিকা বিরোধিতার অবস্থান বজায় রেখেছে, অন্যদিকে নিজেদের বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠাতার ভূমিকায় তুলে ধরেছে।

পাকিস্তান কি কেবল উপলক্ষ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন যে, পাকিস্তানের মাধ্যমে শান্তি স্থাপন হয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট বলছে, পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল কেবল বাহ্যিক। মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেছে ড্রাগনের দেশ। চিনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপের ফলেই ইরান শেষ পর্যন্ত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে আপাতত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য বড় স্বস্তি।

যুদ্ধবিরতির প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে এটি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ আলোচনার টেবিলে বসবে। যুদ্ধের আশঙ্কায় ভারতের মতো দেশগুলো আগে থেকেই সতর্ক ছিল। টাকার দামের পতন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার যে মেঘ জমেছিল, এই যুদ্ধবিরতি তা কিছুটা হলেও কাটাতে সক্ষম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

একঝলকে

  • ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আপাতত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা।
  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, চিনের মধ্যস্থতা ছাড়া এটি আসাম্ভব ছিল।
  • পাকিস্তান নয়, চিনের কূটনৈতিক চাপই ইরানের অবস্থান বদলে মূল ভূমিকা নিয়েছে।
  • রাশিয়া ও চিন রাষ্ট্রপুঞ্জে ভেটো দিয়ে হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের প্রভাব বজায় রেখেছে।
  • যুদ্ধবিরতির ফলে বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালী পুনরায় চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *