দুর্নীতিমুক্ত বাংলার অর্থ যাবে মহিলা ও যুবকদের পকেটে, শাহের বড় ঘোষণা
পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জের জনসভা থেকে রাজ্যের শাসকদলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে ঘোষিত মহিলা ও বেকার যুবকদের মাসিক ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তৃণমূলের করা আর্থিক সংস্থানের প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিলেন তিনি। শাহের দাবি, রাজ্যে চলমান বিভিন্ন দুর্নীতি বন্ধ করলেই এই বিপুল অর্থের সংস্থান সম্ভব হবে।
দুর্নীতির টাকায় জনকল্যাণ ও আর্থিক সংস্থান বিশ্লেষণ
গত শনিবার কলকাতায় বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছিল যে, মহিলা ও যুবকদের মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট কোথা থেকে আসবে। রানিগঞ্জের সভা থেকে অমিত শাহ এর একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
- দুর্নীতি দমনই আয়ের উৎস: শাহ স্পষ্ট জানান, শিক্ষক নিয়োগ, গরু পাচার, বালি, কয়লা, রেশন এবং পুরসভার নিয়োগে যে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, তা বন্ধ করা হবে। এই দুর্নীতির টাকা সরাসরি সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
- সিন্ডিকেট রাজের অবসান: তৃণমূল সরকারের ‘ভাইপো’ এবং সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করলে রাজ্যে যে বিপুল রাজস্ব সাশ্রয় হবে, তা দিয়েই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো চালানো সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।
- লক্ষ্মীর ভান্ডারের পাল্টা চ্যালেঞ্জ: বর্তমানে তৃণমূল সরকার মহিলাদের ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা দেয়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই অঙ্ক দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর্থিক সক্ষমতার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন শাহ।
আইনশৃঙ্খলা ও কঠোর তদন্তের হুঁশিয়ারি
অমিত শাহ কেবল আর্থিক প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নেও সুর চড়িয়েছেন। তার ভাষণে উঠে এসেছে একাধিক কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত:
- বিশেষ তদন্ত দল: ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলায় যত রাজনৈতিক অশান্তি ও হিংসার ঘটনা ঘটেছে, বিজেপি সরকার গড়লে তার প্রত্যেকটির নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে।
- গুন্ডারাজ নিয়ন্ত্রণ: নির্বাচনের দিন কোনো ‘গুন্ডা’ যেন পথে না বেরোয়, সেই মর্মে মাইকে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ভোটারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিজেপি বদ্ধপরিকর বলে জানান শাহ।
- অনুপ্রবেশ ও জমি বিতর্ক: অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ-এর জন্য প্রয়োজনীয় ৬০০ একর জমি রাজ্য সরকার দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে এই জমি হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও সামাজিক সংস্কার
হুমায়ুন কবীর প্রসঙ্গে তৃণমূলের তোলা ‘আঁতাঁত’ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে শাহ বলেন, যারা রাজ্যে বাবরি মসজিদ গড়ার স্বপ্ন দেখে, তাদের সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। বরং হুমায়ুন কবীরকে তিনি তৃণমূলেরই লোক হিসেবে চিহ্নিত করেন। এছাড়া বাংলায় ক্ষমতায় এলে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ (UCC) কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যা বহুবিবাহ প্রথার অবসান ঘটাবে বলে দাবি করেন।
এক ঝলকে
- আর্থিক প্রতিশ্রুতি: মহিলা ও বেকার যুবকদের মাসে ৩০০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্কে।
- উৎসবের উৎস: সিন্ডিকেট ও নিয়োগ দুর্নীতি বন্ধ করে সেই টাকা জনকল্যাণে ব্যয়।
- আইনি পদক্ষেপ: ১০ বছরের সমস্ত হিংসার ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি।
- সীমান্ত সুরক্ষা: ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি দিয়ে অনুপ্রবেশ বন্ধের উদ্যোগ।
- সামাজিক বিধি: পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি কার্যকর করার ঘোষণা।
