ভারত বিক্রি করছেন মোদী! বাংলায় বিস্ফোরক রাহুল গান্ধী

ভারত বিক্রি করছেন মোদী! বাংলায় বিস্ফোরক রাহুল গান্ধী

মালদহ থেকে মোদীকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা রাহুলের: বাণিজ্য চুক্তি ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

২০২৬ সালের নির্বাচনী রণকৌশল সাজাতে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে আয়োজিত জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান নিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি ‘দেশদ্রোহী’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। রাহুলের এই মন্তব্যের পর জাতীয় রাজনীতির অন্দরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন চাপের মুখে ভারতের স্বার্থ বিসর্জন?

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, ওয়াশিংটনের প্রবল চাপের মুখে নতি স্বীকার করেছে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আড়ালে ভারতের জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, যে নেতা দেশের সম্পদ অন্য রাষ্ট্রের হাতে তুলে দিচ্ছেন, তাঁকে দেশপ্রেমিক বলা কীভাবে সম্ভব? তাঁর মতে, এই চুক্তির ফলে ভারতের কৃষি ক্ষেত্র এবং জ্বালানি নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও ক্ষুদ্র শিল্পের সংকট

এই চুক্তির ফলে ভারতীয় অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তা বিশ্লেষণ করে রাহুল গান্ধী কিছু আশঙ্কাজনক দিক তুলে ধরেছেন:

  • আমদানি বৃদ্ধি: চুক্তির ফলে প্রায় ৯.৫ লক্ষ কোটি টাকার মার্কিন পণ্য ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করবে।
  • ক্ষুদ্র শিল্পের বিপর্যয়: বিদেশি পণ্যের এই জোয়ারে দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ‘সুনামি’র মতো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
  • বেকারত্বের ঝুঁকি: হাজার হাজার ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা দেশের বেকারত্ব সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করবে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন

বাণিজ্যিক ক্ষতির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়েও মোদী সরকারকে আক্রমণ করেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকদের স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্য বা ‘ডেটা’ আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপকে তিনি ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য এক বিশাল হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বাংলার বেকারত্ব ও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা

বিজেপিকে আক্রমণ করার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যর্থতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর অভিযোগ:

  • তৃণমূল সরকার ৫ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে ৮৪ লক্ষ যুবক বেকার ভাতার জন্য আবেদন করতে বাধ্য হয়েছেন।
  • মোদীর চুক্তির ফলে যেমন ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষতি হবে, তেমনই মমতা সরকারের আমলে বাংলায় আগেই শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

সংবিধান ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিজেপি ও আরএসএস-এর বিরুদ্ধে সংবিধান ধ্বংস করার অভিযোগ আনেন রাহুল গান্ধী। বিশেষ করে ভোটার তালিকার পুনরীক্ষণ প্রক্রিয়াকে তিনি ‘অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করেন এবং এটিকে ‘ভোট চুরির চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেন। ২০২৬ সালের লড়াইয়ের আগে মোদী সরকারকে ‘দেশবিরোধী’ বলে তকমা দিয়ে রাহুল গান্ধী এক বড় রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এক ঝলকে

  • মালদহের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আক্রমণ রাহুল গান্ধীর।
  • ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে দেশ বিক্রির গুরুতর অভিযোগ।
  • ৯.৫ লক্ষ কোটি টাকার মার্কিন পণ্যের প্রবেশের ফলে ক্ষুদ্র শিল্প ধ্বংসের আশঙ্কা।
  • ভারতীয় নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য আমেরিকার হাতে হস্তান্তরের দাবি।
  • বেকারত্ব ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে তীব্র সমালোচনা।
  • ভোটার তালিকার পুনরীক্ষণ প্রক্রিয়াকে ‘ভোট চুরির চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *