স্বামীর জিহ্বায় কামড় দিয়ে রক্ত পান করে উধাও স্ত্রী! শিউরে উঠল পুলিশও
বিহারের গয়ায় লোমহর্ষক ঘটনা: স্বামীর জিহ্বা কামড়ে গিলে ফেললেন স্ত্রী, পলাতক অভিযুক্ত
বিহারের গয়াজির খিজরাসরাই এলাকায় এক অভাবনীয় এবং নারকীয় ঘটনায় শোরগোল পড়ে গেছে। ৩৬ বছর বয়সী মুকেশ দাসের স্ত্রী সুনিতা দেবী তার স্বামীর জিহ্বা কামড়ে ছিঁড়ে গিলে ফেলেছেন এবং ক্ষতস্থান থেকে ঝরতে থাকা রক্ত পান করে এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন। এই ঘটনার নৃশংসতা এবং অদ্ভুত প্রকৃতিতে হতবাক পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
নৃশংস ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী মুকেশের বয়ান অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফেরার পর এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পেশায় আশা কর্মী সুনিতা প্রথমে নাটকীয়ভাবে দাবি করেন যে তিনি বিষপান করেছেন। স্বামী মুকেশ যখন তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন, তখন সুনিতা মিষ্টি কথা বলে কৌশলে তাকে জিভ বের করতে বলেন। মুকেশের প্রাথমিক অনীহা সত্ত্বেও স্ত্রীর জোরাজুরিতে তিনি সামান্য জিভ বের করেন। এরপর আরও জিভ বের করার অনুরোধ করে সুনিতা আচমকাই প্রচণ্ড জোরে কামড়ে মুকেশের জিহ্বাটি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন এবং তা গিলে নেন। যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা স্বামীর ক্ষত থেকে রক্ত পান করে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি।
মানসিক অসুস্থতা নাকি অতিপ্রাকৃত শক্তি?
ঘটনার পরপরই লোকলজ্জার ভয়ে মুকেশ শুরুতে দাবি করেছিলেন যে, ফ্যান ঠিক করতে গিয়ে টেবিল থেকে পড়ে তার জিভ কেটে গেছে। তবে পরবর্তীতে তিনি তার স্ত্রীর অস্বাভাবিক আচরণের কথা প্রকাশ করেন। মুকেশের বর্ণনা অনুযায়ী, সুনিতার আচরণ দীর্ঘ দিন ধরেই রহস্যময় ছিল:
- তিনি একবার তাদের কন্যাসন্তানকে নিয়ে দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়েছিলেন, তবে আশ্চর্যজনকভাবে কারোরই কোনো ক্ষতি হয়নি।
- একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে দরজা না খুলেই রহস্যজনকভাবে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি।
- এই সমস্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মুকেশের ধারণা, তার স্ত্রীর মধ্যে কোনো এক ধরনের অশুভ বা অলৌকিক শক্তি কাজ করছে।
পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রভাব
এই নৃশংস ঘটনার ফলে মুকেশ বর্তমানে কথা বলার ক্ষমতা হারিয়েছেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। দম্পতির ১২ বছরের নিচে তিন সন্তান (দুই ছেলে ও এক মেয়ে) রয়েছে। বর্তমানে তারা তাদের দাদা-দাদির আশ্রয়ে রয়েছেন। পরিবারের এই আকস্মিক বিপর্যয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং মানসিক অবস্থা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্ত্রী সুনিতা দেবী পলাতক। পুলিশ তাকে খুঁজে বের করতে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনাটি নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। কেউ একে গুরুতর মানসিক ব্যাধি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসের সাথে এর সংযোগ খুঁজছেন। পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।
এক ঝলকে
- ঘটনার স্থান: খিজরাসরাই, গয়া, বিহার।
- ভুক্তভোগী: ৩৬ বছর বয়সী মুকেশ দাস।
- অভিযুক্ত: সুনিতা দেবী (পেশায় আশা কর্মী)।
- মূল ঘটনা: স্বামীর জিহ্বা কামড়ে ছিঁড়ে গিলে ফেলা এবং রক্ত পান করে পলায়ন।
- রহস্য: অভিযুক্ত স্ত্রীর অস্বাভাবিক আচরণ ও অতিপ্রাকৃত শক্তির কথা ভুক্তভোগীর দাবি।
- বর্তমান অবস্থা: মুকেশ বাকশক্তিহীন ও চিকিৎসাধীন; অভিযুক্ত স্ত্রী পলাতক ও তদন্ত চলছে।
