মমতার হুঁশিয়ারি, এজেন্সি দিয়ে ভোট রোখা যাবে না!

নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সির সক্রিয়তা: বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজার সাথে সাথেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর অতিসক্রিয়তা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইপ্যাকের (I-PAC) এক আধিকারিক গ্রেফতার হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের একটি নির্বাচনী সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।
মধ্যরাতে তল্লাশি ও গ্রেফতারির অভিযোগ
জগৎবল্লভপুরের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, বেছে বেছে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মধ্যরাতে ইডি (ED) এবং সিবিআই (CBI)-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো তল্লাশি চালাচ্ছে এবং তৃণমূলের এজেন্টদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:
- রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি: নির্বাচনের ঠিক আগে বুথ স্তরের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে তৃণমূল শিবিরের বিশ্বাস।
- তদন্তকারী সংস্থার সক্রিয়তা: সাম্প্রতিক বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শাসক দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- প্রতিরোধের বার্তা: কেন্দ্রীয় চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে বরং পাল্টা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
‘এক জনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে’
দলের কর্মীদের ওপর আইনি চাপ সৃষ্টির চেষ্টার জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলন বা সংগঠনকে স্তব্ধ করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, দল থেকে একজনকে গ্রেফতার করলে তার পরিবর্তে হাজার হাজার নতুন কর্মী রাজপথে বেরিয়ে আসবেন। লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে এই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য হলো দলের নিচুতলার কর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ রাখা।
বিজেপি ও এজেন্সি রাজনীতির বিতর্ক
সরাসরি বিজেপিকে লক্ষ্য করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে তৃণমূলের মোকাবিলা করতে না পেরে বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। জগৎবল্লভপুরের সভায় তিনি ‘এজেন্সি রাজনীতি’র প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই গভীর রাতে তল্লাশি এবং ধরপাকড়ের মতো দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এক ঝলকে
- হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের সভা থেকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
- মধ্যরাতে ইডি ও সিবিআইয়ের তল্লাশি অভিযানের তীব্র সমালোচনা।
- বিজেপিকে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, একজনকে ধরলে হাজার জন রাস্তায় নামবে।
- আইপ্যাক কর্তার গ্রেফতারির পর মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
