প্রাচীন মন্দিরে স্বয়ং হনুমান জির আবির্ভাব! নিমেষেই অদৃশ্য হলো প্রসাদ

প্রাচীন মন্দিরে স্বয়ং হনুমান জির আবির্ভাব! নিমেষেই অদৃশ্য হলো প্রসাদ

রহস্যময় পিলুয়া হনুমান মন্দির: যেখানে মূর্তি পান করেন দুধ ও লাড্ডু, বিজ্ঞানও যেখানে রহস্যময়

উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়া জেলায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত একটি বিশেষ মন্দির বর্তমানে দেশ-বিদেশের মানুষের কৌতূহল ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ইটাওয়া সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে প্রতাপ নগর গ্রামের রুরার বিড়হ এলাকায় অবস্থিত এই ‘পিলুয়া হনুমান মন্দিরের’ অলৌকিক দাবিগুলো বিজ্ঞান ও বিশ্বাসের এক অদ্ভুত লড়াইয়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৭০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও নামকরণ

পিলুয়া হনুমান মন্দিরটি প্রায় ৭০০ বছরের পুরনো একটি সিদ্ধপীঠ। স্থানীয়ভাবে এই মন্দিরের এক বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। মন্দিরের নামকরণ করা হয়েছে ওই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে থাকা ‘পিলুয়া’ গাছের নামানুসারে। উল্লেখ্য, শুরুর দিকে হনুমান জি-র মূর্তিটি একটি পিলুয়া গাছের নিচেই স্থাপিত ছিল, যা সময়ের সাথে সাথে বর্তমানের এই বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন মন্দিরে রূপান্তরিত হয়েছে। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো বজরংবলীর শায়িত বাল্যরূপের বিরল মূর্তি।

প্রসাদ গ্রহণের অমীমাংসিত রহস্য

এই মন্দিরের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি হলো হনুমান জি-র মূর্তির গঠন। শায়িত অবস্থায় থাকা এই মূর্তির মুখটি খোলা। ভক্তদের বিশ্বাস, এখানে হনুমান জি সশরীরে উপস্থিত থেকে প্রসাদ গ্রহণ করেন।

  • অদৃশ্য প্রসাদ: ভক্তরা যখন ভক্তিভরে লাড্ডু বা দুধ নিবেদন করেন, তখন তা সরাসরি মূর্তির মুখের ভেতর দিয়ে পেটে চলে যায়।
  • বিজ্ঞানের ব্যর্থতা: হাজার হাজার টন লাড্ডু ও বিপুল পরিমাণ দুধ নিবেদন করা হলেও মূর্তির মুখটি কখনোই পূর্ণ হয়নি। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের গবেষকরা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালিয়েও এই প্রসাদ অদৃশ্য হওয়ার কারণ খুঁজে পাননি।

রাম নাম জপ ও নিশ্বাসের অলৌকিক প্রমাণ

মন্দিরের পুরোহিত এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর দাবি অনুযায়ী, এই মূর্তির মধ্যে প্রাণ বিদ্যমান। তারা মনে করেন, হনুমান জি এখানে অবিরত রাম নাম জপ করেন।

  • বুদবুদের রহস্য: মূর্তির মুখে সবসময় জল বা দুধ ভরা থাকে এবং সেখান থেকে ক্রমাগত বুদবুদ উঠতে দেখা যায়। পুরোহিতদের মতে, এই বুদবুদগুলো আসলে হনুমান জি-র নিশ্বাসের শব্দ এবং তাঁর রাম নাম জপ করার বহিঃপ্রকাশ।
  • বিশ্বাসের কেন্দ্র: এই অনন্য বৈশিষ্ট্য দেখার জন্য কেবল স্থানীয় মানুষ নন, দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটক ও ভক্তদের সমাগম ঘটে।

ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক প্রভাব

জনশ্রুতি অনুযায়ী, এই মন্দিরের ইতিহাস মহাভারত কালের সাথে যুক্ত। স্থাপত্য ও মূর্তিশৈলীর দিক থেকে এটি অত্যন্ত বিরল। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার এবং শনিবার এখানে ভক্তদের ভিড় থাকে, তবে ‘বুধবা মঙ্গল’-এর দিনে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই সিদ্ধপীঠে প্রার্থনা করলে বজরংবলী তাঁদের মনের ইচ্ছা পূরণ করেন।

এক ঝলকে

  • অবস্থান: উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়ায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত ৭০০ বছরের পুরনো পিলুয়া হনুমান মন্দির।
  • বিশেষত্ব: এখানে হনুমান জি-র শায়িত বাল্যরূপের মূর্তির মুখটি খোলা থাকে।
  • অলৌকিকতা: নিবেদন করা লাড্ডু ও দুধ সরাসরি মূর্তির মুখে প্রবেশ করে অদৃশ্য হয়ে যায়।
  • বিশ্বাস: মূর্তির মুখ থেকে ওঠা বুদবুদকে হনুমান জি-র রাম নাম জপ ও শ্বাস নেওয়ার প্রমাণ বলে মনে করা হয়।
  • রহস্য: প্রত্নতত্ত্ববিদ ও বিজ্ঞানীরা এই প্রসাদ গ্রহণের বৈজ্ঞানিক কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *