নীতীশ রাণের ‘কর্পোরেট জিহাদ’ হুঙ্কার! নাসিকের পর পুণের ইনফোসিসে চাঞ্চল্য

নীতীশ রাণের ‘কর্পোরেট জিহাদ’ হুঙ্কার! নাসিকের পর পুণের ইনফোসিসে চাঞ্চল্য

আইটি হাবে ‘কর্পোরেট জেহাদ’ বিতর্ক: নাসিকের পর এবার পুণে ইনফোসিসে হেনস্তার অভিযোগ, রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়

ভারতের অন্যতম প্রধান আইটি হাব মহারাষ্ট্রের নাসিক ও পুণেতে পরপর ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) অফিসে ‘ধর্মান্তর ও যৌন হেনস্তা’র অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পুণের ইনফোসিস বিপিএম (Infosys BPM) কার্যালয়ে ‘জেহাদি হেনস্তা’র অভিযোগ সামনে এসেছে। এই দুই ঘটনা আইটি সেক্টরে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

পুণের ইনফোসিসে নতুন অভিযোগ

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক ব্যবহারকারী মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এবং মন্ত্রী নীতীশ রানেকে ট্যাগ করে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে, পুণে ইনফোসিসের ‘ডাইমলার প্রজেক্টে’ কর্মরত বেশ কিছু তরুণী জেহাদি হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। এই অভিযোগ দ্রুত মন্ত্রী নীতীশ রানের নজরে আসে এবং তিনি অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

নাসিক টিসিএসে ঠিক কী ঘটেছিল

নাসিকের টিসিএস বিপিও শাখায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি রীতিমতো নজিরবিহীন ও উদ্বেগজনক। সেখানে আটজন নারী কর্মীসহ মোট নয়জন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এই ঘটনা তদন্ত করছে। অভিযোগগুলো হলো:

  • ধর্মান্তর ও ধর্মীয় হেনস্তার চাপ: কর্মীদের নামাজ পড়তে বাধ্য করা এবং গোমাংস খাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এটি কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তি পরিচয়ের উপর সরাসরি আঘাত।
  • যৌন হেনস্তা ও প্রেমের ফাঁদ: অভিযোগকারীদের দাবি, প্রেমের ফাঁদে ফেলে নারী কর্মীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এটি কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুতর লঙ্ঘন।
  • মূল হোতা ও গ্রেপ্তার: তদন্তে উঠে এসেছে যে, নিদা খান নামের এক ব্যক্তি এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে মূল হোতা হিসেবে কাজ করেছেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আরও তদন্ত চলছে।

‘কর্পোরেট জেহাদ’ বিতর্ক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই পুরো পরিস্থিতিকে ‘কর্পোরেট জেহাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মন্ত্রী নীতীশ রানে। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, যখন অফিসের ভেতরে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে, তখন হিউম্যান রিসোর্স (HR) বিভাগ কী করছিল? তিনি আরও জানিয়েছেন যে, প্রায় ১৫ জন ভুক্তভোগী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিপদে পড়া কর্মীদের নির্ভয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারি সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

টাটা সন্সের কড়া অবস্থান

নাসিকের ঘটনা টাটা গ্রুপের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করায় নড়েচড়ে বসেছেন টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরণ। তিনি এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং চিফ অপারেটিং অফিসার আরতি সুব্রমানিয়ানকে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কর্মক্ষেত্রে এমন কোনো কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না।

নাসিক ও পুণের মতো আন্তর্জাতিক মানের আইটি হাবে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক ও যৌন হেনস্তার অভিযোগ সাধারণ মানুষ এবং আইটি কর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কর্মক্ষেত্রে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ও সম্মান বজায় রাখা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক ঝলকে

  • নাসিকের টিসিএসের পর পুণের ইনফোসিসে ‘জেহাদি হেনস্তা’র নতুন অভিযোগ।
  • নারী কর্মীদের নামাজ পড়তে এবং গোমাংস খেতে বাধ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
  • নাসিক ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নিদা খানসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
  • মন্ত্রী নীতীশ রানে এই ঘটনাকে ‘কর্পোরেট জেহাদ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
  • টাটা সন্স এবং মহারাষ্ট্র সরকার এই ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *