ভোটের মুখে ইডির ‘চরম মরিয়া’ রূপ! আই-প্যাক ডিরেক্টরের গ্রেফতারি নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি

বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে আই-প্যাক (I-PAC) কর্তা বিনেশ চান্দেলের গ্রেফতারি বাংলার রাজনৈতিক আঙিনায় ব্যাপক উত্তাপ ছড়িয়েছে। কয়লা পাচার মামলায় সোমবার রাতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হাতে তার গ্রেফতারি নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবির এখন একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছে। আদালত বিনেশকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে, যা নির্বাচনী মরসুমে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
‘ময়দানে লড়াইয়ের ক্ষমতা নেই বিজেপির’: চন্দ্রিমা
এই গ্রেফতারির প্রতিক্রিয়ায় রাজ্য সরকারের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি ইডি-কে ‘এক্সট্রিমলি ডেসপারেট’ বা অতি মরিয়া সংস্থা হিসেবে অভিহিত করেছেন। চন্দ্রিমার অভিযোগ, ভোটের মুখে বিজেপি পরাজয় নিশ্চিত জেনে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার সাহস পাচ্ছে না। তার দাবি, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়েই গেরুয়া শিবির এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
‘সবাই জানে কয়লার টাকা গোয়ায় গেছে’: শুভেন্দু
চন্দ্রিমার মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই গ্রেফতারিকে অনেকদিনের প্রতীক্ষিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। শুভেন্দুর দাবি, ইডির এই পদক্ষেপ আকস্মিক নয়, বরং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, কয়লা পাচারের টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে আই-প্যাকের কাছে পৌঁছানো হয়েছিল এবং সেই অর্থ গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে ব্যবহার করা হয়েছে। তার মতে, এই লেনদেনের বিষয়টি সর্বজনবিদিত এবং সঠিক সময়েই তদন্তকারী সংস্থা ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি
ইডি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে কয়লা পাচারের প্রায় ২০ কোটি টাকা বেআইনিভাবে আই-প্যাকের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রাথমিক তদন্তে এই লেনদেনের হদিস পাওয়ার পর গত ২ এপ্রিল বিনেশ চান্দেলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। বিনেশের গ্রেফতারির পর এবার তদন্ত সংস্থা তাদের জাল আরও প্রসারিত করছে। সূত্রের খবর, এই ঘটনার তদন্তে আই-প্যাকের অন্য অধিকর্তা প্রতীক জৈনের স্ত্রী এবং ভাই পুলকিত জৈনকেও কেন্দ্রীয় সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরপাকড় জনমনে যেমন প্রভাব ফেলছে, তেমনই আই-প্যাকের মতো কৌশলী সংস্থার সঙ্গে কয়লা পাচারের যোগসূত্র প্রমাণের বিষয়টি মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
এক ঝলকে
- বিধানসভা নির্বাচনের ৯ দিন আগে কয়লা পাচার মামলায় গ্রেফতার আই-প্যাক কর্তা বিনেশ চান্দেল।
- আদালত বিনেশকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
- চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের দাবি, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়ে ইডি-কে ব্যবহার করছে।
- শুভেন্দু অধিকারীর পাল্টা অভিযোগ, কয়লা পাচারের টাকা গোয়া নির্বাচনে ব্যবহার করা হয়েছে।
- ইডি-র অনুসন্ধান অনুযায়ী, আই-প্যাকের কাছে ২০ কোটি টাকা লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
- তদন্তের স্বার্থে প্রতীক জৈনের আত্মীয়দের তলব করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
